• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

৩০ বছর পর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, মন্ত্রণালয়ে বাবার চেয়ারে বসলেন মেয়ে!

কেফায়েত শাকিল

প্রকাশিত: ২১:২৪, ২ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ২১:২৫, ২ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
৩০ বছর পর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, মন্ত্রণালয়ে বাবার চেয়ারে বসলেন মেয়ে!

১৯৯৬ সালে যে চেয়ার ছেড়ে গেছেন বাবা ৩০ বছর পর সেই চেয়ারে বসলেন তারই মেয়ে। বলছি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের কথা। আজ থেকে ৩০ বছর আগে এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন তার বাবা ফজলুর রহমান (পটল)। বড় ভাইয়ের সঙ্গে প্রতিদ্বিন্দ্বীতা করে প্রথমবার এমপি হয়ে বাবার ছেড়ে যাওয়া সেই মন্ত্রণালয়েরই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন পুতুল।

ফারজানা শারমিনের জন্ম ১৯৮৪ সালের নভেম্বরে। তিনি নাটোর-১ আসনে চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি লালপুর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামে। ফজলুর রহমান ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে ১৯৯৩ সালে তাকে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালের বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন ১১ দিনের সরকারেও একই মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ধর্ম মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব পান তিনি। কিন্তু, মাত্র দশ দিনের মাথায় ৩০ মার্চ ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হয় তাদের। ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ বাবার ছেড়ে যাওয়া সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর সেই দায়িত্ব ৩০ বছর পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গ্রহণ করেছেন মেয়ে ফারজানা শারমিন পুতুল। সমাজকল্যাণের পাশাপাশি তাকে দেওয়া হয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও।

পুতুল পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। তারপর উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় ও বিপিপি ইউনিভার্সিটি কলেজ, লন্ডন থেকে। শিক্ষাজীবন শেষে দেশে ফিরে ২০০৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জেলা আদালতে অ্যাডভোকেট হিসেবে আইনজীবী জীবন শুরু করেন। ২০১২ সালে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইনচর্চার অনুমতি লাভ করেন। ২০২৪ সালে ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের সদস্য করা হয় তাকে।

রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নিলেও সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না ফারজানা শারমিন পুতুল। তবে ২০১৬ সালে বাবা ফজলুর রহমান মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। পরে তিনি নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত হন। পুতুল বিএনপি চেয়ারপারসনের বৈদেশিক বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির বিশেষ সহকারীদের একজন। এছাড়া তিনি দলটির মানবাধিকার কমিটি এবং মিডিয়া সেল কমিটিতেও কাজ করেছেন।

ফারজানা শারমীন এবার নাটোর-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রথম এমপি হয়েই পেয়েছেন দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। তবে, এই নির্বাচন তার জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। কারণ, জামায়াতের প্রার্থী ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর পাশাপাশি পুতুলের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছিলেন তারই ভাই ইয়াসির আরশাদ। যদিও যদিও এক পর্যায়ে মাঠ ছেড়ে দিয়েছেন তার ভাই। তবু জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ও নিজ দলের বহিষ্কৃত নেতা তাইফুল ইসলামের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফারজানা শারমীন পুতুল।

ফারজানা শারমীন প্রতিমন্ত্রী হওয়া উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসীর প্রত্যাশা তার হাত ধরে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি সারাদেশে ছড়িয়ে যাবে নাটেরের সুনাম।

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত