• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

সরকার সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে

বাসস

প্রকাশিত: ০১:১৫, ৬ এপ্রিল ২০২৬

ফন্ট সাইজ
সরকার সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সরকার সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে একমাত্র পথ হলো সংবিধান মেনে চলা।

তিনি বলেন, “সবকিছুই—সরকার গঠন, সংসদ ও সব সংসদ সদস্য—সংবিধান অনুযায়ী এসেছে। কিন্তু এখন সংবিধানকে উপেক্ষা করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করা যায় কীভাবে?”

তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক (নোয়াখালী-২) কর্তৃক আনীত জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব (বিধি-৬২)-এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন।

‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫: ভবিষ্যতের পথরেখা’—একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যা সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইন-কানুন প্রণয়ন, সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জনের বিষয়ে প্রস্তাবনা দেয়—এমনটি উল্লেখ করে তিনি বক্তব্য দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-কে ‘লেজিসলেটিভ ফ্রড’ এবং ‘কালারেবল লেজিসলেশন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আমরা চাই ৩৩টি রাজনৈতিক দল কর্তৃক অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন করতে। কিন্তু এই আদেশে পূর্বে সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে সম্মত সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।”

তিনি বলেন, সংবিধান পুনর্লিখনের কোনো প্রয়োজন নেই; জনগণের নির্দেশ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব। তিনি সংসদে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন, যাতে সব রাজনৈতিক দলের সদস্যরা সংবিধান সংশোধনের কাজে অংশ নিতে পারেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পঞ্চম সংশোধনী ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিরোধী দলকে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “পঞ্চম সংশোধনী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দ্বারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা পরে বাতিল করা হয়েছে।”

আলোচনায় অংশ নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নের জন্য অন্য কোনো পথ অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, এই সনদ স্পষ্টভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয় এবং এটি কোনো রাজনৈতিক দলকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে নয়।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, “যে আইন সংবিধানের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করবে, সেটি প্রয়োগযোগ্য নয়। জুলাই সনদ হলো জনগণের রক্ত, ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস—এটি কোনো দলীয় দলিল নয়।”

সংসদে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান মুলতবি প্রস্তাবটি গ্রহণ না করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, একই প্রস্তাব আগেও সংসদে উত্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু তার পরিণতি কী হয়েছে তা জানা যায়নি।

সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক (যশোর-৫), আখতার হোসেন (রংপুর-৪), নাজিবুর রহমান (পাবনা-১), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (চট্টগ্রাম-৫) এবং আন্দালীব রহমান (ভোলা-১) আলোচনায় অংশ নেন।

উল্লেখ্য, ১ এপ্রিল সরকারি দলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক প্রস্তাবটি উত্থাপন করলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তা আলোচনার জন্য গ্রহণ করেন এবং ৫ এপ্রিল এ বিষয়ে দুই ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়।

প্রস্তাব উত্থাপন করে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, “এই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ হলো ১৭ বছরের সংগ্রাম ও ত্যাগের পর বিএনপির জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের ফল। এটি আমাদের ভবিষ্যতের রোডম্যাপ।”

তিনি আরও বলেন, সনদটি একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যা বিভিন্ন আইন ও সংবিধান সংশোধনের স্পষ্ট প্রস্তাবনা দেয়। এটি বাস্তবায়নের জন্য বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: