• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

দেশে এসএমই খাতে টেকসই উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ

প্রকাশিত: ১৮:২০, ৭ এপ্রিল ২০২৬

ফন্ট সাইজ
দেশে এসএমই খাতে টেকসই উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ

দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের টেকসই উন্নয়ন জোরদার করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ইউনাইটেড নেশনস গ্লোবাল কম্প্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ। সংস্থাটির উদ্যোগে চালু করা হয়েছে ‘এসএমই টুলকিট’।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১০টায় রাজধানীর বাংলামটরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে টুলকিটটি উন্মোচন করা হয়। এতে সহযোগিতা করেছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) এবং সিএমএসএমই খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

আয়োজকরা জানান, এই টুলকিটের মাধ্যমে দেশের এসএমই উদ্যোক্তারা পরিবেশবান্ধব, সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল ও সুশাসনভিত্তিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা পাবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, ‘একটি দেশের উন্নয়নে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের উন্নয়ন যাত্রা শুরু হয়েছে এই খাতকে ঘিরেই।’

তিনি বলেন, ‘দেশের বিদ্যমান পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালায় এসএমই খাতকে তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় সবুজ ও হলুদ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। কারণ এই খাত থেকে পরিবেশ দূষণ তুলনামূলক কম হয়। তবে শুরু থেকেই পরিকল্পনায় পরিবেশবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি রাখা জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসএমই উদ্যোক্তাদের উৎপাদন পরিকল্পনায় কম জ্বালানি ব্যবহার, কম পানি ব্যবহার ও কম বর্জ্য উৎপাদনের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। একইসঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও হতে হবে পরিবেশবান্ধব।’

ড. ফাহমিদা খানম বলেন, ‘বর্তমানে টেকসই ব্যবসার মূল বিষয় হলো পরিবেশবান্ধব প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। অর্থাৎ উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি এমনভাবে হতে হবে, যেন পরিবেশের ক্ষতি না হয়। পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার, কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

তিনি জানান, নতুন চালু হওয়া এসএমই টুলকিটে উদ্যোক্তাদের জন্য প্রায় ৩২টি প্রশিক্ষণধর্মী উপকরণ ও আটটি মডিউল রাখা হয়েছে, যা তাদের টেকসই ব্যবসা পরিচালনায় সহায়তা করবে।

সরকারের একার পক্ষে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিল্প প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা, স্থানীয় কমিউনিটি এমনকি সাধারণ মানুষকেও একযোগে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়।’

উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই খাতকে আরও শক্তিশালী করতে টেকসই নীতিমালা অনুসরণ অপরিহার্য।’

অনুষ্ঠানে জিসিএনবির নির্বাহী পরিচালক শাহামিন এস জামান বলেন, ‘নতুন চালু হওয়া এসএমই টুলকিটটি মূলত একটি স্ব-মূল্যায়নভিত্তিক উপকরণ, যার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সহজেই তাদের বর্তমান অবস্থান মূল্যায়ন করতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তারা এই অনলাইনভিত্তিক টুলকিট ব্যবহার করে বুঝতে পারবেন তারা ব্যবসার কোন স্তরে আছেন এবং কিভাবে উন্নতি করা সম্ভব।’

শাহামিন এস জামান আরও বলেন, ‘টেকসই ব্যবসার জন্য তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, পরিবেশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সুশাসন। উদ্যোক্তাদের শুধু ব্যবসা পরিচালনাই নয়, বরং কর্মীদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।’

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত পরিবেশগত ও সামাজিক মানদণ্ড সম্পর্কে সচেতন হলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে এ বিষয়ে জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে। এই টুলকিট সেই ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিক বর্জ্যসহ বিভিন্ন পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীরা নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। এসব বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা গেলে তা অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব, যা দেশের জন্য বাড়তি আয় বয়ে আনতে পারে।’

শাহামিন এস. জামান আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে একটি বড় বৈশ্বিক ইস্যু, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর বেশি প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করে পরিবেশ দূষণ কমানো ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘এই টুলকিটের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ব্যবসা পরিচালনায় আরও সচেতন হবেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবেন।’

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: