• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার পুনরায় খোলা ও ব্যয় হ্রাসে দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগ

প্রকাশিত: ১৫:২৫, ৯ এপ্রিল ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার পুনরায় খোলা ও ব্যয় হ্রাসে দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য পুনরায় খোলা হচ্ছে এবং শ্রমিক নিয়োগের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে শ্রমবাজার খোলা, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা এবং ব্যয় হ্রাসের বিষয়ে যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ভিত্তিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়।

শ্রমবাজার বিষয়ক আলোচনা করতে গত বুধবার মালয়েশিয়ায় যান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়গুলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা পদে রয়েছেন। বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি শ্রমবাজার নিয়ে তাদের প্রথম বৈঠক।

বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং হাই কমিশনারও উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উভয় পক্ষ শ্রম সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং শ্রমিক শোষণ রোধে একটি স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও কার্যকর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিক্ষক বিনিময়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রযাত্রায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদার করার অঙ্গীকার করেছে।

পরে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতো শ্রী রমনন রামকৃষ্ণন, আর বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

দ্বিপাক্ষিক যৌথ প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশ শ্রম অভিবাসনে দীর্ঘস্থায়ী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারিত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবসম্মত কাঠামোর মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। এতে বিদ্যমান নিয়োগ সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করা এবং নিরাপদ, নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করা হবে।

উভয় পক্ষ মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ভিত্তিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে, মধ্যস্থতাকারী ও অভিবাসন খরচ কমানোর জন্য কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে, বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থা ব্যবহার করতে এবং অবশিষ্ট আটকে পড়া শ্রমিকদের নিযোগ দ্রুত সহজতর করতে সম্মত হয়েছে।

বৈঠকে মালয়েশিয়ার পক্ষ তাদের প্রযুক্তি-ভিত্তিক, এআই-চালিত নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের কথাও অবহিত করে, যা মধ্যস্থতাকারী কমানো, অভিবাসন ব্যয় হ্রাস এবং নিয়োগকারীর পুরো খরচ বহন নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশের পক্ষ এ ধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নে পূর্ণ সমর্থন জানায়।

দুই দেশ মানব পাচার সম্পর্কিত চলমান আইনি মামলা, শ্রমিক নিয়োগে অনিয়ম এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে শ্রম সরবরাহ সমন্বয় বিষয়ে মতবিনিময় করেছে। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল উষ্ণ আতিথেয়তা এবং বৈঠক আয়োজনের জন্য মালয়েশিয়ার সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত