• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

এক ইস্যুতে তিন বক্তব্য! অটোরিকশা নিয়ে সরকারের আসল সিদ্ধান্ত কী?

প্রকাশিত: ১৮:৫৪, ৪ জুন ২০২৬

ফন্ট সাইজ
এক ইস্যুতে তিন বক্তব্য! অটোরিকশা নিয়ে সরকারের আসল সিদ্ধান্ত কী?

এআই নির্ভর সিগন্যালে চলছে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা। স্বয়ংক্রিয় লাল বাতিতে থামছে গাড়ি আবার চলছে সবুজ বাতিতে। লাল বাতি জ্বলে উঠতেই নির্ধারিত দাগে থেমে যাচ্ছে বাস, ট্রাক, প্রাইভেট পরিবহন, মোটরসাইকেল। কিন্তু কোনো কিছুকেই পাত্তা দিচ্ছে না ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো। লাল-সবুজ যাই থাকুক না কেন, হরদম গতিতে ছুটছে তারা। কোনো লাইসেন্স না থাকায় এদের ধরতে ব্যর্থ ট্রাফিক পুলিশও।

এমন পরিস্থিতিতে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে হলে রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ একান্ত প্রয়োজন বলছেন সাধারণ যাত্রী, চালক এবং সড়ক বিশেষজ্ঞ সবাই।

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের পক্ষে সরকারও। কিন্তু কবে-কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, এ নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। নগরবাসী বলছেন, খোদ সরকারের কর্তা ব্যক্তিরাই ছড়াচ্ছেন এই ধোঁয়াশা।

গত ২ জুন রাজধানীতে আলাদা দু'টি সভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে বক্তব্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা মহানগর এলাকার বাইরে নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। অপরদিকে দক্ষিণের নগর প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেছেন, বন্ধ নয়, রিকশা ও অটোরিকশা লাইসেন্সের আওতায় আনবেন তারা। তার আগে গত ২০ মে ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রাতারাতি বন্ধ করা সম্ভব না।

এর আগেও সরকারের বিভিন্ন কর্তাব্যক্তিদের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য প্রকট করেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সংকটকে। আওয়ামী লীগ সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে এই অটোরিকশাকে 'বাংলার টেসলা' বলে আখ্যায়াতি করে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই তিন চাকার যানকে উৎসাহিত করেছিলেন। অপরদিকে সেই সরকারেরই সড়ক পরিবহনমন্ত্রী কখনো দিয়েছেন অটোরিকশা বন্ধের কড়া বক্তব্য, কখনো আবার গেয়েছেন অটোরিকশার পক্ষে। সবশেষ অন্তর্বর্তী সরকারকেও এই ইস্যুতে বেশ বেগ পেতে দেখা গেছে। তৎকালীণ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে তৎপর দেখা গেলেও তার বিপরীতে বুয়েটের সহযোগিতায় অটোরিকশারই অন্য ভার্ষণ নিয়ে এসেছেন সেই সরকারেরই নিয়োগকৃত ঢাকা উত্তর সিটি প্রশাসক। 

এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে যার মতো কথা না বলে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সংকট কাটাতে প্রয়োজন সরকারের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা। পদক্ষেপও শুরু করতে হবে খুব দ্রুতই।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ বাংলাভিশনকে বলেন, আমরা এখন এআইকে এনফোর্সমেন্টে ব্যবহার করছি। কিন্তু এখনও ট্রাফিক অপারেশানে ব্যবহার করতে পারছি না। এর মূল কারণ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। তাদের যেহেতু কোনো লিগ্যাল ডকুমেন্ট নাই, এজন্য তারা আইনের বাইরে থেকে যাচ্ছে। আইনের বাইরে থাকায় তারা কোনো সিগন্যাল মানছেও না। এভাবে তারা আইন অমান্য করতে থাকলে একটা বৈষম্য তৈরি হবে। যারা এখন মানছে তাদের মধ্যেও না মানার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এজন্য এআই ট্রাফিকিং সফল করতে হলে প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা অবশ্যই সরাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সরকারের কর্মকর্তারা অটোরিকশা ইস্যুতে একেক সময় একেক বক্তব্য দিচ্ছেন। কেউ কঠোর বলছেন কেউ আবার অটোর পক্ষে। এ কারণে তারা প্রশ্রয় পেয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সবাই এত কথা না বলে উচিত হলো একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো। আমি বার বার বলবো, সড়কে শৃঙ্খলা আনতে হলে কোনো যদি কিন্তু ছাড়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ করতেই হবে।

ঢাকার রাস্তায় চলা অটোরিকশার সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব কারো কাছেই নেই। তবে এই শহরে ১৫ থেকে ২০ লাখ অটোরিকশা চলাচল করছে বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তাই অন্য সব সিদ্ধান্তের আগে নতুন করে অটোরিকশা আমদানি ও উৎপাদন বন্ধে এখনি নজর দিতেও বলছেন এই সড়ক বিশেষজ্ঞ।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: