• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

মোংলা বন্দরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী: নানা প্রত্যাশা শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের

জসিম উদ্দিন, মোংলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:২০, ২১ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১২:২৩, ২১ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মোংলা বন্দরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী: নানা প্রত্যাশা শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের

আগামীকাল ২২ অক্টোবর মোংলা বন্দরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় তিনি মোংলা বন্দরের জেটির কার্যক্রম ও বন্দর জেটি সংলগ্ন ইকোনোমিক জোন এলাকা পরিদর্শন করবেন। এছাড়া হেলিকপ্টার যোগে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্পট ও বন্দর চ্যানের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের কথা রয়েছে। 

দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করার পর প্রথমবার মোংলা বন্দরে পরিদর্শনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। তার এই সফর ঘিরে দীর্ঘদিনের নানা সমস্যারগুলোর সমাধান চায় মোংলা অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা।

বাগেরহাট—৩(রামপাল—মোংলা) আসনের সংসদ সদস্য ও বন, পরিবেশ  জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান,  প্রধানমন্ত্রীর আগমনে চায়না বিনিয়োগ, মোংলা নদীতে সেতু নির্মাণ, মোংলা—খুলনা সড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করণসহ ট্রানজিট সুবিধার ব্যবহার করে মোংলা বন্দরকে দক্ষিানাঞ্চলের হাব হিসেবে রপপান্তরে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ব্যবসায়ীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। মোংলা সিন্ডএফ এসোসিয়েশনের সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, সরকার প্রধানের এ আগমেন মধ্য দিয়ে, মোংলা ইপিজেড এবং এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা করতে হবে। তবেই কেবল উৎপাদন খরচ কমবে এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারবে। মোংলা বন্দরের ড্রেজিং বা নাব্য রক্ষা করার জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি খালাস হওয়া পণ্য দ্রুত ও কম খরচে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য স্থানে পৌঁছানোর জন্য রেল ও সড়ক যোগাযোগের পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

মোংলা শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ক্যাপটেন রফিকুল ইসলাম বলেন, মোংলা বন্দরের জেটিতে প্রতিনিয়ত জাহাজ আগন কমছে। মোংলা বন্দরের চ্যানেলের ড্রেজিং করার স্থায়ী সমাধান ও রামপালে বিমান বন্দর নির্মানের কাজ শুরু করতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতি—অনিয়ম দুর করে বন্দরের পণ্য আমদানী—রপ্তানী কার্যক্রমে গতি বাড়াতে হবে। তিনি আশা করেন প্রধানমন্ত্রী এবিষয়ে নির্দেশনা দিবেন।

মোংলা বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ খোরশেদ আলম বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা থাকলেও আমদানী—রফতানি বানিজ্যে চট্রগ্রামের তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে মোংলা সমুদ্র বন্দর। তাই দেশের অর্থনীতি সচল করতে মোংলা বন্দর কেন্দ্রিক আমলাতান্ত্রিক হয়রানি ও দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ করে, সরকার প্রধানের বারবার দেওয়া "বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ" গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের এ সফরে কার্যকর দেখতে চান ব্যবসায়ীরা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর মোংলা বন্দর সফরে নেই কোন দলীয় কর্মসূচী। তারপরও নেতা—কর্মীদের মধ্যে নেই আনন্দের কমতি। পুরো বাগেরহাট জেলা জুড়ে আনন্দ মিছিল করছেন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। 

মোংলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মান্নান হাওলাদার বলেন, দেশ পরিচালনায় বিএনপির চেয়ারম্যান অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে তিনি মোংলা বন্দরের উন্নয়নে নজর দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দর সফর করবেন। এসফর উপলক্ষে তারা আনন্দ মিছিল—র‌্যালি করেছেন। মোংলা উপজেলা ও পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে তিনি দলীয় প্রধানকে ধন্যবাদ জানান এবং মোংলা বন্দরে সফর করার জন্য কৃতঞ্জতা প্রকাশ করেন।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: