• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২৭ পুলিশ সদস্য কারাগারে, কঠোর বার্তা আইজিপির

প্রকাশিত: ১৬:১৯, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৬:২১, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২৭ পুলিশ সদস্য কারাগারে, কঠোর বার্তা আইজিপির

পুলিশ বাহিনীর ভেতরে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত দুই মাসে ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। পুলিশ বাহিনীকে শক্তিশালী করতে হলে আগে নিজেদের ঘর পরিষ্কার করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে পুলিশের লজিস্টিক সংকট দূর করতে ৫ হাজার ৮০০ গাড়ি কেনা এবং প্রতি বছর ন্যূনতম ১৫ হাজার নতুন পুলিশ সদস্য নিয়োগের ঘোষণাও দেন আইজিপি।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট জেলা পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ ও এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিলুর ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, সরকারি পিসি কলেজের অধ্যক্ষ পারভীন আক্তার, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাইদ শুনুসহ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, মাদক নির্মূল ও বিদ্যমান সংকট নিয়ে আইজিপি বলেন, গত দুই মাসে আমি ২৭ জন পুলিশ অফিসারকে, পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠিয়েছি এই মাদকের কারণে। আপনারা আর কী চান? আগে ঘর পরিষ্কার হোক, তারপরে আপনারা পরিষ্কার হবেন।

পুলিশ সদস্যদের সতর্ক করে তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে কাউকে কক্সবাজারে পাঠানো হলে তিনি নিজেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন না। ভালো কাজ করলে চাকরি হারানোর ভয় থাকার কথা নয়। যারা পুলিশ বাহিনীকে অকার্যকর ও দুর্বল করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর পুলিশকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। পুলিশের যানের চাহিদার তুলনায় প্রায় আড়াই হাজার গাড়ির ঘাটতি রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার ৮০০ গাড়ি কেনার জন্য নতুন একটি প্রকল্প গত সপ্তাহে অনুমোদন হয়েছে। এ ছাড়া জনবলের ঘাটতি পূরণে প্রতি বছর ন্যূনতম ১৫ হাজার নতুন সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে কিশোর গ্যাং ও মাদক নির্মূলের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধ প্রতিরোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে। বেকারত্ব মোকাবিলার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়ানোর বিষয়েও আইজিপি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রতিটা জায়গায় ষড়যন্ত্র। আমি বুঝি, আমার বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী এসেই বলেছে, প্ল্যান। এটার ভিতরে আপনারা ষড়যন্ত্র খুঁজেন কেন, সে কোন কাজটা খারাপ করছে। ব্যাংক শূন্য, সবকিছু শূন্য। তারপরে আবার বলেন, ওনারাই ফেরেশতা। আর এখন যারা আমরা আছি, আমরা সব খারাপ লোক।

দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করতে চাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে আঁতাতকারীরা কখনো দেশপ্রেমিক হতে পারে না উল্লেখ করে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি জনগণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

বিভি/বিএস/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত