• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

বিশ্ব সুনামি সচেতনতা দিবস আজ

প্রকাশিত: ০৯:২৫, ৫ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বিশ্ব সুনামি সচেতনতা দিবস আজ

ছবি: অনলাইন

আজ ৫ নভেম্বর বিশ্ব সুনামি সচেতনতা দিবস। সুনামির ভয়াবহতা সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা বাড়ানো, ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের পূর্বাভাস, সতর্কবার্তা এবং দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করাই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ৫ নভেম্বরকে বিশ্ব সুনামি সচেতনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। জাপানের উদ্যোগে দিবসটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়। দেশটিতে প্রচলিত একটি ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে ৫ নভেম্বর তারিখটি বেছে নেওয়া হয়।

সুনামি মূলত সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত কিংবা ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট বিশাল ঢেউয়ের ধারাবাহিকতা। এসব ঢেউ সমুদ্রের গভীর পানিতে খুব বেশি উচ্চতা তৈরি না করলেও উপকূলের কাছাকাছি এসে ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। মুহূর্তের মধ্যে উপকূলীয় জনপদ প্লাবিত করে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি ঘটাতে পারে এই দুর্যোগ।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুনামির কারণে অতীতে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট ভয়াবহ সুনামি ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশের উপকূলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এতে দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

জাতিসংঘের মতে, সুনামির ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, জনসচেতনতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার মানুষকে দুর্যোগের লক্ষণ শনাক্ত করা এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার বিষয়ে প্রশিক্ষিত করা প্রয়োজন।

সুনামি মোকাবিলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আগাম সতর্কবার্তা ও দ্রুত পদক্ষেপ। সমুদ্রের পানি অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত সরে যাওয়া, উপকূলে অস্বাভাবিক গর্জন শোনা কিংবা শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হওয়া সম্ভাব্য সুনামির প্রাকৃতিক সংকেত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সতর্কবার্তার অপেক্ষায় না থেকে দ্রুত উঁচু ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া জরুরি।

দিবসটি পালনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশে সচেতনতামূলক প্রচার, মহড়া, প্রশিক্ষণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, উপকূলীয় জনগোষ্ঠী এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত ব্যক্তিদের সুনামি মোকাবিলার প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশও বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী দেশ হওয়ায় সুনামির ঝুঁকি ও দুর্যোগ প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যদিও দেশে সুনামির ঘটনা বিরল, তবু ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় উপকূলীয় এলাকায় সচেতনতা, কার্যকর সতর্কবার্তা ব্যবস্থা এবং উদ্ধার কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

বিশ্ব সুনামি সচেতনতা দিবসের মূল বার্তা হলো, দুর্যোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও সচেতনতা, বিজ্ঞানভিত্তিক পূর্বাভাস এবং যথাযথ প্রস্তুতির মাধ্যমে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই শুধু দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা বছরই সুনামি মোকাবিলায় প্রস্তুতি রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত