এক মাস পর চালু, কয়লা সঙ্কটে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র আবার বন্ধের শঙ্কা
কয়লা ও ডলার সংকটের কারণে এক মাস বন্ধ থাকার পর বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়েছে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে। বুধবার রাত ১১ টার দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর ২৭ দিনের মাথায় কয়লা সংকটে গত ১৪ জানুয়ারি বন্ধ হয়ে যায় রামপাল। পুনরায় কয়লা আমদানি শুরু হওয়ায় এবং ডলার সংকটে কিছুটা স্বস্তি ফেরায় নতুন করে উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল)। কিন্তু এলসি (ঋণপত্র খোলা) জটিলতা স্বাভাবিক না হলে কয়লা সংকটে এপ্রিলের পর ফের কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ৩০ হাজার টন কয়লা নিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি একটি জাহাজ দেশে এসেছে; ৫০ হাজার টন কয়লার আরেকটি চালান আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশে আসার কথা রয়েছে। প্রতিদিন কেন্দ্রটির একটি ইউনিট চালু রাখতে প্রয়োজন পাঁচ হাজার মেট্রিক টন কয়লা। বন্ধের আগে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টন কয়লা আমদানি করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানির (বিআইএফপিসিএল) উপ-মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম বলেন, কয়লা আমদানি নিয়ে জটিলতা না থাকলে কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক থাকবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প অফিসে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ- এফইআরবি'র সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন প্রকল্প পরিচালক সুভাস চন্দ্র পান্ডে।
এসময় সুভাস চন্দ্র পান্ডে বলেন, 'এখন পাইপলাইনে যে কয়লা রয়েছে সেটি দিয়ে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট আগামী এপ্রিল পর্যন্ত চালানো সম্ভব। এর মধ্যে এলসি জটিলতা না কাটলে কয়লা আমদানি ব্যাহত হবে। ফলে কেন্দ্রটি চালু রাখা সম্ভব হবে না।'
কয়লা খালাসের জেটির সক্ষমতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রকল্প পরিচালক বলেন, 'জেটির সক্ষমতা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। তিনটি জেটি থেকে দৈনিক আনলোড করার সক্ষমতা রয়েছে ১২ হাজার টন, কিন্তু একটি ইউনিটে কয়লার প্রয়োজন হচ্ছে চার থেকে সাড়ে চার হাজার টন। জুনে দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে দুই ইউনিটে দৈনিক কয়লার প্রয়োজন হবে ৯ হাজার টন। সে হিসাবে প্রয়োজনের চেয়ে কয়লা আনলোড করার সক্ষমতা বেশি।'
প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ পড়ছে প্রতি ইউনিট ১৩ থেকে ১৪ টাকা। সামনে বিশ্ববাজারে কয়লার দাম কমে আসলে উৎপাদন খরচও কমে আসবে।’
বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামগ্রিক কাজের অগ্রগতির বিষযে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামগ্রিক কাজের অগ্রগতি ৮৩ শতাংশ। একটি ইউনিটের কাজ শেষ করে এরইমধ্যে উৎপাদন শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন আগামী জুনে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, কেন্দ্রটিতে কয়লা মজুদের সক্ষমতা রয়েছে তিন মাসের। নিয়ম অনুযায়ী এক মাসের কয়লা মজুদ রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ডলার সংকটে এত দিন কেন্দ্রটিতে কয়লার কোনো মজুদ ছিল না।
প্রাথমিকভাবে, বিআইএফপিসিএল কমিশনিং পর্যায়ে ৩ লাখ টন কয়লা আমদানির পরিকল্পনা করেছিল। তবে এখন চুক্তিতে এই পরিমাণ দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, তিন বছরে ৮ মিলিয়ন টন কয়লা আমদানির আরও একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বিআইএফপিসিএল।
বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ বিনিয়োগে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে বাগেরহাটের রামপালে। প্রথম ইউনিটি এর উৎপাদনক্ষমতা ৬৬০ মেগাওয়াট। গত ১৭ ডিসেম্বর থেকে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। পরে কয়লা সংকটে তা বন্ধ হয়ে যায়। সব ঠিক থাকলে আগামী জুনে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে।
বিভি/এজেড













মন্তব্য করুন: