• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২ | ১৬ আষাঢ় ১৪২৯

পলিথিনের শুল্ক কমানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদ

প্রকাশিত: ২১:৪৫, ২৩ জুন ২০২২

আপডেট: ২১:৪৭, ২৩ জুন ২০২২

ফন্ট সাইজ
পলিথিনের শুল্ক কমানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদ

দেশের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় প্লাস্টিক ব্যাগের উপর প্রস্তাবিত সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার পুনর্বিবেচনা করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন জানিয়েছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন- এসডো।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সংগঠনটি সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অর্থমন্ত্রীর বরাবর প্লাস্টিক ব্যাগের উপর প্রস্তাবিত সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার পুনর্বিবেচনার জন্য এবং একবার ব্যবহাযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যগুলির উপর উচ্চ কর আরোপ করা জন্য আবেদন করে একটি পিটিশনও জমা দিয়েছে এসডো।

সংবাদ সম্মেলনে সরকার সব ধরনের পলিথিন ব্যাগের উপর বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব এবং এসডোর চেয়ারপারসন সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ।।

এর আগে সম্প্রতি প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে প্লাস্টিক পলিথিন ব্যাগের উপর থেকে ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। এই প্রস্তাবনায়, স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদনের সুবিধার্থে প্লাস্টিক ব্যাগ এবং পলিথিনের তৈরি মোড়কজাত দ্রব্যাদির উপর শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই প্রসঙ্গে এসডো বলছে, ‘বাংলাদেশ হাইকোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিককে নিষিদ্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। হাইকোর্টের এই রায় অনুসারে, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় একটি গেজেটে, ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলবর্তী ১২টি জেলাতে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্য যেমন প্লেট, গ্লাস, কাপ, চামচ, স্ট্র, স্যাশে, যা পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয় এবং অপচনশীল পণ্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধের নির্দেশ দেয়। অথচ এখন আবার প্লাস্টিকের ওপর শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।’

প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করার ঐতিহাসিক রেজোলিউশনকেও তুলে ধরেছে এসডো। তারা বলছে, জাতিসংঘের পরিবেশ পরিষদে (UNEA-5) একটি আন্তর্জাতিক আইনগতভাবে প্রয়োগযোগ্য চুক্তি তৈরি করা হয়েছে যা ২০২৪ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে। যেখানে বাংলাদেশ সহ ১৭৫টি দেশ চুক্তিটিকে সমর্থন করেছে।

ব্রিফিংয়ে এসডোর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, একটি বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক চুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আমরা ২০২৪ সালের মধ্যে একটি রোডম্যাপ পাবো। এখনই সময় আমাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া। আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত এবং কানাডা প্লাস্টিক দূষণ রোধে অসাধারণ কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশসহ অন্য দক্ষিণ এশিয়া দেশগুলোরও পরিবেশ রক্ষার্থে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা উচিৎ।

তিনি আরও বলেন, একবার ব্যবহাযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যগুলির উপর উচ্চ কর আরোপ করা দরকার যাতে এটির ব্যবহার হ্রাস পায়।

এসডোর নির্বাহী পরিচালক, সিদ্দীকা সুলতানা বলেন, ‘যদি এই প্রস্তাবটি গৃহীত হয়, একবার ব্যবহাযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে, যেটি আমাদের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক হবে। যেহেতু পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এই একবার ব্যবহাযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করে দিচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে আন্ত:সীমান্ত অবৈধ বাণিজ্য বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা আছে এবং বাংলাদেশ একটি প্লাস্টিক হাবে পরিণত হবে।’

বিভি/কেএস/এনএ

মন্তব্য করুন: