• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

মরণোত্তর অঙ্গদান আর ক্যাডাভেরিক অঙ্গদান এক বিষয় নয়

প্রকাশিত: ২০:৪২, ২৪ জানুয়ারি ২০২৩

ফন্ট সাইজ
মরণোত্তর অঙ্গদান আর ক্যাডাভেরিক অঙ্গদান এক বিষয় নয়

প্রয়াত সারাহ ইসলাম

সম্প্রতি সদ্য প্রয়াত সারাহ ইসলামের কিডনি অন্যজনের শরীরে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়। যা বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক বিশাল মাইলফলক। এখানে জেনে রাখা প্রয়োজন সারাহ ইসলাম যে কিডনি দান করেছেন সেটা ক্যাডাভেরিক অঙ্গদান। আর মরণোত্তর অঙ্গদান আর ক্যাডাভেরিক অঙ্গদান এক বিষয় নয়।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অফিসের মিডিয়া সহকারী সুব্রত মণ্ডল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রদানের মাধ্যমে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন।

তিনি লিখেছেন, সারাহ ইসলামের মহানুভবতার কথা বলে শেষ করা যাবে না। সারাহ ইসলাম দেশের প্রথম ক্যাডাভেরিক হিসেবে তার দুটি কিডনি ও দুটি কর্নিয়া দান করেছেন। তার প্রতি চিকিৎসক সমাজসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষ বিনম্র শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করছে। 

গণমাধ্যমকর্মী ভাইদের জ্ঞাতার্থে তিনি লেখেন, ক্যাডাভেরিক হলো যাদের আইসিইউ'তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মস্তিষ্ক অচল হয়ে যায় এবং যাদের বাঁচার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। চিকিৎসা শাস্ত্রের ভাষায় তাদেরকে ক্যাডাভেরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। যদি তারা ক্যান্সার, হেপাটাইটিস, এইচআইভিসহ অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত না হয় তারা ক্যাডাভেরিক হিসেবে অঙ্গদান করতে পারে।

অর্থাৎ মরণোত্তর অঙ্গদান আর ক্যাডাভেরিক অঙ্গদান এক বিষয় নয়। মরণোত্তর না লিখে ব্রেন ডেথ রোগীর অঙ্গদান লেখা উচিত। মরণোত্তর লিখলে বুঝা যাচ্ছে যে কোন স্থানে মারা যাবার পর অঙ্গদান। মানুষ মারা যাবার পর শুধুমাত্র তার কর্নিয়া (যা ৬ ঘণ্টার মধ্যে সংগ্রহ করে) প্রতিস্থাপন করার মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আইসিইউ'তে ব্রেন ডেথ রোগীর হার্টসহ অন্যান্য অঙ্গ সচল থাকে। ব্রেন ডেথ রোগীর ব্রেন ছাড়া সব সচল থাকে। এমন রোগী থেকে আটটি অঙ্গ নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অন্য মানুষের দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। আর ব্রেন ডেথ রোগী শুধু  আইসিইউতেই  পাওয়া যায়। 

মরণোত্তর  অঙ্গদান বললে বুঝা যায়, যেকোন জায়গায় মানুষ মারা গেলেও অঙ্গদান করা যায় এমন বার্তা যাচ্ছে বলে মনে করে হচ্ছে। মরণোত্তর দেহ চিকিৎসা বিজ্ঞানে গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয়।

পরিশেষে সকলকে সর্তকভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করার অনুরোধ করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

বিভি/কেএস/এজেড

মন্তব্য করুন: