• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫

Drama: Jamai Bou Chor
Drama: Jamai Bou Chor

স্বৈরাচারমুক্ত দেশে সবার নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছে: তারেক রহমান

বাসস

প্রকাশিত: ২২:০১, ৩০ আগস্ট ২০২৫

আপডেট: ২২:০২, ৩০ আগস্ট ২০২৫

ফন্ট সাইজ
স্বৈরাচারমুক্ত দেশে সবার নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছে: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ সামনে এসেছে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হলের তারেক স্মৃতি অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী আমলে হামলা-নির্যাতন উপেক্ষা করেও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ সামনে এসেছে।

তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য নিয়ে অন্তর্র্বর্তী সরকার ইতোমধ্যেই নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণা করেছে। বিএনপি ঘোষিত সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দল-মত-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকলের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সক্রিয় সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৬-৭৭ সালের দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে একাধিকবার মতবিনিময় করেছিলেন। তখন তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশের লক্ষ্যে বিরিশিরি কালচার একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। 

তিনি বলেন, এছাড়াও গারো জনগোষ্ঠীর জন্য ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন গঠন, রেডিওতে ‘সাল গীতা’ অনুষ্ঠান চালু, ছাত্র হোস্টেল নির্মাণ, সরকারি চাকরিতে বিশেষ নিয়োগ এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। এর মাধ্যমে সমতলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সঙ্গে শহীদ জিয়ার নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা আজও ময়মনসিংহে স্মৃতি বিজড়িত ইতিহাস।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, যেকোনো মূল্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও কর্মদক্ষতা অর্জনের সুযোগ গ্রহণ করা জরুরি। নিজেদের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার চর্চা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রেও সক্রিয় থাকতে হবে। শিক্ষাদীক্ষা অর্জনের পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধভাবে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে হবে এবং রাষ্ট্র-রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠতে হবে। 

তিনি বলেন, এই লক্ষ্য নিয়েই ২০০৭ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ আগ্রহে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সংঘবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বিএনপির অস্থায়ী সহযোগী সংগঠন হিসেবে জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়। আজকের প্রতিনিধি সম্মেলন তারই প্রতিফলন।

তিনি বলেন, ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক সক্রিয়তা ও বিশ্বাস অক্ষুন্ন রেখেই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেদের ও আগামী প্রজন্মের গণতান্ত্রিক অধিকার, স্বাবলম্বিতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা জরুরি। প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর কাছে সরকার বা রাষ্ট্রের গৃহীত শিক্ষা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের সচেতন রাখা নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পাহাড়ি বা সমতলে বসবাসকারী প্রত্যেক জনগোষ্ঠী যদি নিজের ও দেশের স্বার্থ সম্পর্কে সচেতন থাকে, তবে কোনো অপশক্তি বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ পাবে না।

তারেক রহমান বলেন, দেশের সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত। এর মধ্যে সমতল অঞ্চলের ৬টি বিভাগের ৪২ জেলায় প্রধানত ৩৭টি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর বসবাস। পাহাড়ি অঞ্চলে আরও কয়েকটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী রয়েছে। এভাবেই বহু জাতি, বহু ভাষা ও বহু সংস্কৃতির মানুষের দেশ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর সবাইকে ‘বাঙালি’ বানানোর প্রচেষ্টা ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মনে অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছিল। তবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনের মাধ্যমে সেই কষ্ট দূর করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি হলো- ভাষা, গোত্র, ধর্ম বা মতাদর্শ যার যাই হোক না কেন, আমাদের প্রথম পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। পাহাড়, সমতল, শহর, বন্দর বা প্রত্যন্ত গ্রাম যেখানেই বসবাস হোক না কেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমান। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলো একেকটি রং, যাকে আমরা বলি ‘রেইনবো নেশন’। 

তিনি বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণ, ভাষা-সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষায় উদ্যোগ, দলীয় কাঠামোয় যোগ্য প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি, সাংস্কৃতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গঠন, ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনকে ট্রাস্ট হিসেবে মর্যাদা দেওয়া, বিদেশি প্রযুক্তিগত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি এবং নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনা বিএনপির রয়েছে।

তিনি বলেন, সমতলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া পাহাড়ি অঞ্চলের তুলনায় বেশি জটিল। প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ প্রক্রিয়া কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ। বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে এই প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেবে।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকের দিনটি আনন্দের, কারণ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে জাতীয়তাবাদের দর্শন জাতির সামনে উপস্থাপন করেছিলেন, তার আলোকে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলো আজ একত্রিত হয়েছে। তারা উন্নয়নমূলক কাজে অন্তর্ভুক্ত হতে চায়।

তিনি বলেন, দানবীয় ফ্যাসিস্ট সরকারের দীর্ঘ নির্যাতনের শাসনের পর আমরা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পেয়েছি। এই বাংলাদেশে সব নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আমার নেতা ও আমাদের ম্যাডাম সবসময় বলেন- ‘সংখ্যালঘু’ বলে কোনো শব্দ ব্যবহার করা যাবে না, আমরা সবাই বাংলাদেশি, আমাদের অধিকার সমান।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, অতীতে সবসময় সুবিচার করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা বিশ্বাস করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রণীত ৩১ দফাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির মূল চাবিকাঠি। এর মধ্যে রেইনবো বাংলাদেশের ধারণা রয়েছে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়েই আমরা সত্যিকারের রেইনবো স্টেট গড়তে চাই।

জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মৃগেন হাগিদকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ, ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক একেএম শফিকুল ইসলাম, উত্তর জেলা আহ্বায়ক অধ্যাপক একেএম এনায়েত উল্লাহ, দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু, সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার রোকন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব দ্রং, আদিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রমোদ চন্দ্র বর্মনসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সম্মেলনে দেশের সমতল অঞ্চলের ১২ জেলার বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রায় এক হাজার প্রতিনিধি অংশ নেন।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

Drama Branding Details R2
Drama Branding Details R2