• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দেশের রাজনীতি ও জনগণের প্রত্যাশা নিয়ে যা বললেন মিজানুর রহমান আজহারী

প্রকাশিত: ১৬:৫১, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৬:৫১, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
দেশের রাজনীতি ও জনগণের প্রত্যাশা নিয়ে যা বললেন মিজানুর রহমান আজহারী

দেশের মানুষ ট্যাগিং ও ব্যাশিংমুক্ত, পরিচ্ছন্ন এবং ইতিবাচক ধারার রাজনীতি দেখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ও লেখক ড. মিজানুর রহমান আজহারী। 

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরাজমান রাজনৈতিক পরিবেশ, সামাজিক সম্প্রীতি, জাতীয় ঐক্য এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।

স্ট্যাটাসে ড. আজহারী উল্লেখ করেন, ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে জনগণ পুনরায় তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। আবারও দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার সুযোগ এসেছে ছাত্র-জনতার হাতে। নির্বাচন কেবল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ গতিধারা নির্ধারণের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ। তাই ইতিহাসের এই মহাসন্ধিক্ষণে সচেতন ও সংযমী হওয়ার পাশাপাশি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলনে জাতিগতভাবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি লেখেন, দেড় যুগ পরে সাধারণ মানুষ আবারও তুলনামূলক ভালো নেতা বাছাই করার সুযোগ পেয়েছে। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চারপাশে নানা গুজব, উসকানি এবং দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের আবহ তৈরি হতে পারে। এ কারণে প্রতিটি বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জরুরি। সমাজে পারস্পরিক মতভিন্নতা থাকতেই পারে, তবে তা যেন প্রতিহিংসা কিংবা রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ না নেয়। মনে রাখতে হবে, এই দেশ আমাদের সবার। তাই দেশের সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বও আমাদেরই।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পাড়া-প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক নষ্ট হওয়া এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। আমরা যৌক্তিক আলোচনা ও সমালোচনা করতেই পারি, কিন্তু কাউকে অসম্মান করব না। আমরা পক্ষে-বিপক্ষে মতামত দিতে পারি, তবে ভিন্নমতকে তুচ্ছজ্ঞান করব না। ক্ষুদ্র স্বার্থে বন্ধুত্বের সম্পর্ককে শত্রুতায় পরিণত করব না। মনে রাখতে হবে, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানই একটি মানবিক সমাজের মূল চালিকাশক্তি। তাই ঘৃণা নয়, ঐক্য ও ভালোবাসার শক্তিতেই আমাদের আগামীর পথচলা অব্যাহত রাখতে হবে।

মিজানুর রহমান আজহারী আরও বলেন, সাধারণ মানুষ ট্যাগিং ও ব্যাশিংমুক্ত পরিচ্ছন্ন রাজনীতি দেখতে চায়। তারা চেতনা বিক্রি ও দোষারোপের রাজনীতির চির অবসান চায় এবং রাজনীতিতে নতুনত্ব প্রত্যাশা করে। তাই রাজনীতিবিদদের উচিত ইতিবাচক ধারায় রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনা। জাতিকে বিভক্ত করার রাজনীতিতে কারো জন্যই কল্যাণ নেই। বিভক্তির চাষ করলে দিনশেষে সবাইকেই এর খেসারত দিতে হয়। প্রতিটি আসনে গণমানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানের প্রতিযোগিতা হোক। প্রতিপক্ষকে দোষারোপ না করে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরুন। জনগণ আপনাদের যোগ্যতা মূল্যায়নের ক্ষমতা রাখে রায় দেয়ার দায়িত্ব তাদের হাতেই ছেড়ে দিন।

একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আঠারো কোটি মানুষ দেশের প্রশাসন, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে একটি কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন উপহার পেতে চায়। আপনাদের আন্তরিক সদিচ্ছা ও সঠিক তৎপরতা বাংলাদেশকে এক নতুন দিগন্তে নিয়ে যাবে। জাতির সূর্যসন্তানদের তালিকায় আপনাদের নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে, ইনশা আল্লাহ। তাই দায়িত্ব পালনে পূর্ণ পেশাদারিত্ব ও পক্ষপাতহীন আচরণ প্রত্যাশা করি।

ভোট একটি আমানত। কোনো বস্তুগত আমানত যেমন সততা ও জবাবদিহির দাবি রাখে, ভোটও তেমনই বিবেক, ন্যায়বোধ ও দায়িত্বশীল আচরণের দাবি রাখে। তাই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে সমর্থন দিন। সচেতনভাবে আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। পাশাপাশি আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে দুআ করুন, তিনি যেন এই জাতির কান্ডারী হিসেবে এমন নেতৃত্বকে বাছাই করেন, যার হাতে দেশ, মাটি ও গণমানুষের নিরাপত্তা সুরক্ষিত থাকবে।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে আজহারী বলেন, জনসমর্থনে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পাবেন, তাদের সবাইকে মেনে নেয়া এবং দেশ পরিচালনায় সহযোগিতা করা সকলের কর্তব্য। সকলের সহযোগিতা ছাড়া কারো পক্ষেই এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সুষ্ঠুভাবে নেতৃত্ব দেয়া সম্ভব নয়। নেতৃত্ব পথ দেখাতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেয় ঐক্যবদ্ধ জনগণ।

তিনি বলেন, আসুন সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিনির্মাণ করি বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: