• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপি-জামায়াত দফায় দফায় সংঘর্ষ; আহত ৪০

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২:৪০, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপি-জামায়াত দফায় দফায় সংঘর্ষ; আহত ৪০

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষ প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চারজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে বিকেল পৌনে চারটার দিকে পৌর শহরে ফের উভয় দলের কর্মী-সমর্থকেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে জামায়াতের সমর্থকেরা প্রচারণা চালানোর সময় একজন ভোটারকে ৫০০ টাকা দেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিএনপির এক কর্মী ভিডিও ধারণ করলে জামায়াতের কর্মীদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

পরে পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসংলগ্ন এলাকায় বিএনপির এক কর্মীকে ধাওয়া দেওয়ার পর বিএনপির নেতা-কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পাল্টা ধাওয়া দেন। এতে ঘটনাস্থলে ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা।

কিছু সময় পরে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী একটি সমাবেশে যাওয়ার পথে বাউফল থানার ফটকে তার গাড়ি আটকে দেয় জামায়াত সমর্থকেরা। খবর পেয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে সেখানেও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরপর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনেসহ কয়েকটি স্থানে জামায়াত সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এদিকে ঘটনার পর বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে থানা ঘেরাও করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা থানা ঘেরাও করে বাউফল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখার পর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সালেহ আহমেদ, পটুয়াখালীর সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ মোহাম্মদ শাকুর, সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে ঘোষণা দেওয়া হয়, বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান নির্বাচন পর্যন্ত কোনো দায়িত্ব পালন করবেন না। এ ঘোষণার পর জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা সড়ক ছেড়ে দেন।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইসহাক জানান, টাকা দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। চন্দ্রদ্বীপে জামায়াতের প্রচারণা চলাকালে বিএনপি নেতা-কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় তাদের প্রায় ২০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার বলেন, বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় বুঝতে পেরে জামায়াত নানা ষড়যন্ত্র করছে। পরিকল্পিতভাবেই তারা এই সংঘর্ষের সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আজকের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

বিভি/এমআর

মন্তব্য করুন: