• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা জাহাঙ্গীরের, কঠোর হুঁশিয়ারি আরিফুল ইসলামের

প্রকাশিত: ২১:০৩, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
কেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা জাহাঙ্গীরের, কঠোর হুঁশিয়ারি আরিফুল ইসলামের

ঢাকা-১৮ আসনে ভোটকেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোটের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, শাপলা কলি মার্কার গণজোয়ারে দিশেহারা হয়ে ভোটের দিন কেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছে বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর ও তার সন্ত্রাসীরা। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এ ধরনের কোনো অপচেষ্টা হলে জনগণই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। 

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় উত্তরার আজমপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও ঈদগাহের পূর্ব গেইটে আয়োজিত এক মহিলা সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

আরিফুল ইসলাম বলেন, মানুষ দেশ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন। সেই প্রত্যাশিত পরিবর্তন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হবে। আর এই পরিবর্তনের কাণ্ডারি হবেন নারীরা। যারা তাদের সন্তানদের দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলেছেন, শহীদ হওয়ার মানসিকতা তৈরি করেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছে। তারা আর সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি দেখতে চায় না। মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সংস্কার, বিচার এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ১১ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, একটি দল মুখে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বললেও বাস্তবে তারাই বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করছে এবং নারী নিপীড়নে জড়িত। শুধু বিরোধী দল নয়, নিজ দলের নেতাকর্মীরাও তাদের সহিংসতার শিকার হচ্ছে। যারা নিজেদের ভাই ও সহযোদ্ধাদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, তারা কীভাবে বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে?

আরিফুল ইসলাম বলেন, ১১ দলীয় জোটের মাধ্যমে মানুষ যখন ইনসাফের বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখছে, তখন নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে একটি দল আমাদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। আমাদের মা-বোনদের হয়রানি করছে, এমনকি ভোটকেন্দ্রে গেলে ‘দেখে নেওয়া হবে’- এমন হুমকিও দিচ্ছে।

হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন চাওয়ার কারণে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা ধৈর্য ধরছি। তবে ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা হলে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যেভাবে বৃহত্তর উত্তরাবাসী গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, প্রয়োজন হলে সেদিনও জনগণ নিজেদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হবে।

তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশে প্রকৃত অর্থে নাগরিক অধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ক্ষমতাসীনরা ব্যাংক লুট করে বিদেশে অর্থ পাচার করেছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে দমন-পীড়ন চালিয়েছে। বিশেষ করে গত ১৭ বছর শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও খুনের সংস্কৃতি চালু করা হয়েছে। এখনও দিল্লিতে বসে আমাদের দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদদের হত্যার পরিকল্পনা করছে।

সর্বশেষ শহীদ ওসমান হাদী হত্যার প্রসঙ্গ টেনে আরিফুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েই হাদী ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে আমাদের মায়েরা শুধু একজন হাদীকে জন্ম দেননি; বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য তারা লক্ষ লক্ষ হাদীকে জন্ম দিয়েছেন।

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, ঢাকা-১৮ আসনে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ আশরাফুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) এজিএস (নারী) আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা এবং কার্যকরী সদস্য (নারী) নুসরাত জাহান ইমা প্রমুখ।

এরপর উত্তরার আজমপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে নারীদের প্রতিরোধ যাত্রা শুরু হয়। প্রতিরোধ যাত্রাটি জসিমউদ্দীনে গিয়ে শেষ হয়। এতে কয়েক হাজার নারী অংশগ্রহণ করেন।

বিভি/এসজি

মন্তব্য করুন: