ভোটের মাঠে চমক দেখিয়েছেন ছাত্রদলের যে সাবেক নেতারা
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, এমন সাতজনকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী করে বিএনপি। তাদের মধ্যে সাতজনই পেয়েছেন সংসদে যাওয়ার টিকিট। এছাড়া ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ নেতাদের মধ্যেও বেশ কয়েকজন এবার ভোটের মাঠে চমক দেখিয়েছেন।
১২ ফেব্রুয়ারি হওয়া সংসদ নির্বাচনে নিজ নিজ আসন থেকে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন তারা সবাই। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ নেবেন তারা।
ছাত্রদলের সাবেক সভাপতিদের মধ্যে এবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন– ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী (এ্যানি), আজিজুল বারী হেলাল, সুলতান সালাউদ্দিন (টুকু) ও রাজীব আহসান। ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে এবার প্রার্থী হন আমিরুল ইসলাম খান ও হাবিবুর রশিদ। তারা সবাই জয়ী হয়েছেন।
সাবেক ৫ সভাপতির দুজন দ্বিতীয়বার সংসদে
১৯৯২ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন ফজলুল হক মিলন। বর্তমানে তিনি গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে তিনি জিতেছেন।
১২৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী ফজলুল হক মিলন এক লাখ ৩২ হাজার ৮৯১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. খায়রুল হাসান পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৭৬১ ভোট।২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ১৯৯৭ সালে ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়কও ছিলেন। বিএনপির মনোনয়নে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসন থেকে নির্বাচন করেন তিনি। এর আগেও তিনি একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী।
সংসদ নির্বাচনে তিনি লক্ষ্মীপুর-৩ আসন থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এনিয়ে তিনি টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।
ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল খুলনা-৪ আসন (রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি ২০০৪ সালে ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন।হেলাল বর্তমানে বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক।এর আগে তিনি উত্তরার একটি আসন থেকে ভোট করে হেরে যান।
সুলতান সালাউদ্দিন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন ২০১০ সালে। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। এবার টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। ছাত্রদলের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করার পর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
এবার টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আহসান হাবিব মাসুদ পান ৮০ হাজার ২৮৩ ভোট।
২০১৪ সালে ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন রাজীব আহসান। তিনি এবার বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-কাজীরহাট) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালনের পর এখন তিনি জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ আসনে রাজিব আহসান ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।
সাবেক দুই সাধারণ সম্পাদকও জয়ী
এছাড়া ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে এবার দুজন ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-এনায়েতপুর-চৌহালী) আসনে বিএনপির প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান জয়ী হন। তিনি ২০১০ সালে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতিও ছিলেন।
আর হাবিবুর রশিদ ২০১২ সালে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এবার ঢাকা-৯ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জিতেছেন তিনি। হাবিবুর রশিদ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।
সাবেক কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে জয়ী হয়েছেন যারা
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান ১৯৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নির্বাচিত হন। ভিপি থাকা অবস্থায় ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবার তিনি ঢাকা-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছে।
নরসিংদী-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খায়রুল কবির খোকন ১৯৯০ সালে আমানউল্লাহ আমানের সঙ্গে ডাকসুর জিএস ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব। তিনি এবার নরসিংদী সদর আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতাদের (সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাইরে) মধ্যে এবার অনেকেই মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ছাত্রদলের জেলা কমিটিতে ছিলেন এমন কয়েকজনও এবার মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
শরীয়তপুর-৩ আসনে বিএনপি এবার প্রার্থী করেছে মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদকে (অপু)। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসম্পাদক ছিলেন। তিনি এবার জয়ী হয়েছেন।
খুলনা-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী রকিবুল ইসলাম (বকুল) ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। তিনি এবার জয়ী হয়েছেন।
সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। গুমের শিকার হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তিনি। তিনিও এবার জয়ী হয়েছেন।
মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন মো. কামরুজ্জামান রতন। তিনি জয়ী হয়েছেন। তিনি বিএনপির সমাজকল্যাণ সম্পাদক। তিনি ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।
বিভি/এআই



মন্তব্য করুন: