যে কারণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের
ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত সব ‘অসম ও অধীনতামূলক’ চুক্তি বাতিল এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর অবাধ তৎপরতা বন্ধের দাবিতে আগামী ১ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের দাবিতে আয়োজিত গণসমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান।
সমাবেশে খোমেনী ইহসান অভিযোগ করেন, ভারতীয় হাইকমিশনারের অবাধ তৎপরতার পর থেকে দেশজুড়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক কার্যক্রম বেড়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তারের ঘটনাকে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা সংকটের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, ভারতীয় হাইকমিশনারকে ভিয়েনা কনভেনশন মেনে চলতে বাধ্য করার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর চলাফেরা দেখে মনে হয় না তিনি কোনো স্বাধীন দেশে কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর অভিযোগ, ত্রিবেদী যখন-তখন বাংলাদেশের মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের দপ্তরে যাচ্ছেন এবং এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতির তোয়াক্কা করছেন না।
খোমেনী ইহসান আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। তাঁর দাবি, ভারত বাংলাদেশ থেকে গুম করে নিয়ে যাওয়া কয়েকশ মানুষকে এখনো ফেরত দেয়নি। এ অবস্থায় ভারতীয় হাইকমিশনারের অবাধ তৎপরতা অনুমোদন করা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী ১ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে এ ব্যাপারে জবাবদিহি দাবি করব। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতীয় হাইকমিশনারকে কেন অবাধে তৎপরতা চালাতে দিচ্ছে, তা জানতে চাইব।’
সমাবেশ থেকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত সব ‘অসম ও অধীনতামূলক’ চুক্তি বাতিলের দাবি জানান খোমেনী ইহসান। তিনি বিভিন্ন চুক্তির বিষয়ে সরকারের সমালোচনা করেন এবং এসব চুক্তির কারণে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের দাবি স্পষ্ট- কোনো ‘দাসত্বমূলক’ চুক্তি থাকবে না। তার দাবি, সরকারকে ভারতের সঙ্গে করা অধীনতামূলক চুক্তি বাতিলের পাশাপাশি সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী পুনর্বহাল করতে হবে।
সমাবেশে জাতীয় স্বার্থে সরকার, বিরোধী দল ও জনগণের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানান জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং সরকারের ভেতরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরেননি।
সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড মুসলিম উম্মাহর প্রেসিডেন্ট ডা. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ গ্রিন পার্টির মুখপাত্র ইউসুফ আম্মার, মুসলিম লীগ নেতা জহির উদ্দীন বাবর, সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াইচিং মং শাক, জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল হামিদ, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্যসচিব আব্দুস সালাম, তপু তৌহিদ, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সহকারী সদস্যসচিব মো. শফিকুর রহমান, জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের আহ্বায়ক সেলিম রেজা বাচ্চু, মো. ফেরদাউস হাসান নাজমুল ও মো. রফিকুল ইসলাম।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমির চেয়ারম্যান মো. আবদুল জব্বার, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সদস্য সাকিব সামিন, মুহাজির নেতা আব্দুল ওয়াহিদ এবং বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সহকারী সদস্যসচিব মো. আরিফুল ইসলামসহ অনেকে।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: