• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪

Inhouse Drama Promotion
Inhouse Drama Promotion

ঈদুল আজহার পেছনে রয়েছে যে সুন্দর ও শিক্ষণীয় এক গল্প

ইমরান মাহমুদ

প্রকাশিত: ১৫:৪১, ১৩ জুন ২০২৪

ফন্ট সাইজ

আর কিছুদিন পরেই ঈদুল আজহা। মুসলিমদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব। এই দিন মুসলিমরা ঈদের নামাজের পশু কুরবানী করে থাকেন মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। কিন্তু ঈদ মানে কি শুধু কুরবানী করা আর মাংস খাওয়া নয়, এই ঈদুল আজহার পেছনে রয়েছে সুন্দর ও শিক্ষণীয় একটি গল্প।

মুসলিমদের দুটি ঈদই আসে কঠিন এক পরীক্ষার পর। সেই পরীক্ষা সুন্দর মত শেষ করতে পারলে আল্লাহ একটা দিন উৎসবের জন্য দেন। যেমন ১ মাস কঠিন সিয়াম সাধনার পর আমরা ঈদুল ফিতর পালন করি। একই ভাবে ঈদুল আজহাও কঠিন এক পরীক্ষার পুরস্কার।

ঈদুল আজহা ও হজ এই দুইটি বিষয়ই সরাসরি ইবরাহীম (আ.) এর সাথে সংযুক্ত। হযরত ইবরাহীম (আ) ছিলেন খলিলুল্লাহ, যার অর্থ আল্লাহর বন্ধু। আল্লাহ তাঁকে এই সম্মানটা এমনি এমনি দেননি। এর জন্য আল্লাহ ইবরাহীম (আ.) কে কঠিন থেকে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন করেন। আর প্রতিটি পরীক্ষাতেই ইবরাহীম (আ) সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন। 

আল্লাহ কুরআনে বলেন, ‘যখন তার পালনকর্তা ইব্রাহীমের ঈমান পরীক্ষা করলেন এবং তিনি পরীক্ষায় সন্তুষ্ট হলেন, তখন তিনি বললেন, “আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা নিযুক্ত করছি।” ইব্রাহিম জিজ্ঞেস করলেন, “এই নেতৃত্ব কি আমার বংশধরদের মাধ্যমেও চলতে থাকবে?” তার পালনকর্তা উত্তর দিলেন, "অন্যায়কারীদের আমার কর্তৃত্ব প্রয়োগ করার অধিকার নেই।” [সুরা বাক্কারা, আয়াত ১২৪]’

আল্লাহ যেভাবে ইবরাহীম (আ) এর পরীক্ষা নেন, সেভাবে অন্য কোন নবী রাসুলের পরীক্ষা নেননি। এবং তিনি সবগুলো পরীক্ষাতেই আল্লাহকে সন্তুষ্ট করেন। আর তাই আল্লাহ তাঁকে মানবজাতির নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। ইবরাহীম (আ) এর এমনই এক পরীক্ষা ছিলো কুরবানি।

ইবরাহীম (আ) পর পর কিছু দিন স্বপ্নে দেখলেন যে, আল্লাহ তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন তার প্রিয় বস্তু কুরবানি করতে। অনেক ঘটনার পর ইব্রাহীম (আ.) বুঝতে পারলেন আল্লাহপাক তাঁর নিজের ছেলে ইসমাইল (আ)কে কুরবানী করার কথা বলেছেন। তিনি সেই কথা ইসমাইল (আ) কে জানালেন। ইসমাইল (আ) কোন চিন্তা ছাড়াই রাজি হয়ে যান আর বলেন, “আপনাকে যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আপনি পালন করুন, নিশ্চই আপনি আমাকে ধৈর্য্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।”

অর্থাৎ, শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইবরাহীম (আ) তার আদরের সন্তানকে কুরবানী দিতে এক মুহূর্তও দ্বিধাবোধ করেননি। ঠিক একই ভাবে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইসমাইল (আ)-ও ছুরির সামনে আসতে ভয় করেননি। ইবরাহীম (আ) যখন তার ছেলেকে কুরবানী করলেন, তখন আল্লাহ তার ও ইসমাইল (আ) এর উপর এতটাই খুশি হলেন যে তিনি ইসমাইল (আ) এর জায়গায় জান্নাত থেকে একটি দুম্বা পাঠিয়ে দিলেন আর সেই দুম্বাটিই কুরবানি হলো।

ইবরাহীম (আ) এর এই পরীক্ষা আল্লাহর কাছে এত পছন্দ হয় যে তিনি আমাদের সবাইকে সেই সুন্নাহ পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিটি কুরবানি আসলে পশুর কুরবানি না, বরং তা হচ্ছে এক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের অঙ্গীকার। আল্লাহ কুরআনে বলেন, “তাদের গোশত বা রক্ত ​​আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, তবে যা পৌঁছায় তা হল তোমাদের তাকওয়া” [সুরা হজ, আয়াত ৩৭] এ ছাড়াও এই ঘটনা থেকে আরও একটি শিক্ষা পাওয়া যায় তা হচ্ছে, যখন একজন বান্দা তার রবের উপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করে, তখন আল্লাহ নিজে সেই বান্দাকে হেফাজত করেন।

এই কুরবানী ঈদসহ আসন্ন প্রতিটি ঈদে যেন আল্লাহ আমাদের ইবরাহীম (আ) এর আদর্শ ও শিক্ষা পুনরুজ্জীবিত করার তৌফিক দেন।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

Drama Branding Details R2
Drama Branding Details R2