• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৪০ ফুট উঁচুতে প্রাচীন মসজিদে প্রতিদিন ইফতারি করে কয়েক হাজার রোজাদার

নাসির উদ্দিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশিত: ১০:২০, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১০:৩২, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ

আজানের ধ্বনি ভেসে আসতেই নেমে আসে প্রশান্তি। সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৪০ ফুট উঁচুতে দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ-এ সারি সারি বসে থাকা রোজাদারদের সামনে সাজানো খেজুর, ছোলা আর পানির গ্লাস। মুহূর্তেই একসঙ্গে ইফতার করেন কয়েক হাজার মানুষ।

৩৫৯ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এই মসজিদ ভারতের দিল্লি জামে মসজিদের আদলে নির্মিত। ‘পাথরের মসজিদ’ কিংবা ‘জিন্দা পীরের মসজিদ’ নামেও এটি বেশ পরিচিত । এখানে সালাত আদায়ে যেমন আত্মিক তৃপ্তি মেলে, তেমনি রমজানে গড়ে ওঠে ভ্রাতৃত্বের অনন্য মেলবন্ধন।

১৯৯৬ সালে এই মসজিদে চালু হওয়া গণ ইফতার এখন রমজানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিদিন কয়েক হাজার রোজাদার শরীক হন এই আয়োজনে। ধনী-দরিদ্র, নানা পেশা ও শ্রেণির মানুষ একই কাতারে বসে ইফতার করেন। এখানে নেই কোনো ভেদাভেদ, নেই সামাজিক বিভাজন। যতই রোজাদার আসুক কোন সংকট নেই এখানকার ইফতারে। মনে প্রশান্তি নিয়ে ইফতার সারেন সবাই। তবে প্রকাশ্যে আসতে চান না ইফতার যোগানদাররা।

ইফতার ব্যবস্থাপনায় রয়েছে মুসল্লি পরিষদ। অনুদান যারা দেন তারা কখনোই প্রকাশ্যে আসতে চান না। ইফতারের জন্য যে অনুদান মেলে তা শেষ করা হয় এই রমজান মাসেই। 

এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৪জন আওলাদে রাসুল খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। তাদের ই একজন সৈয়দ মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন আল মাদানী। তিনি মক্কা-মদীনার আদলে এখানে চালু করেন গণ ইফতার। 

আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদে রমজানের প্রথম দিন থেকেই সবার জন্য ইফতার নিশ্চিতের এই আয়োজন চলবে শেষ দিন পর্যন্ত। প্রাচীন এই  শাহী মসজিদ এখন শুধু ইবাদতের স্থান নয় এটি হয়ে উঠেছে সমতা, সৌহার্দ্য আর ভ্রাতৃত্বের প্রতীক।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত