• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

রমজানে অন্তত ১জনও যে ইবাদত না করলে পুরো গ্রামের সবাই গোনাহগার হবে

প্রকাশিত: ১৫:১৪, ৮ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
রমজানে অন্তত ১জনও যে ইবাদত না করলে পুরো গ্রামের সবাই গোনাহগার হবে

দেখতে দেখতে প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছে পবিত্র রমজান মাস। আর দুদিন বাদেই শুরু হবে নাজাতের শেষ ১০ দিন। ইবাদত-বন্দেগীর মাস এই রমজানের শেষ দশদিনে রয়েছে বিশেষ ইবাদত। যেটা এক গ্রাম থেকে অন্তত একজনকে হলেও করতে হবে নাহলে পুরো গ্রামের সবাই গোনাহগার হবেন।

ওই ইবাদতটি হলো ইতিকাফ। দুনিয়ার ব্যস্ততাকে পাশে ঠেলে, একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম একটি ইবাদত এটা। পরিভাষায় ইতিকাফ হল, আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে দুনিয়ার যাবতীয় ব্যস্ততাকে গুটিয়ে, এমন মসজিদে অবস্থান করা, যেখানে জামাতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা হয়।

ইসলামে ইতিকাফের বিধান অনেক প্রাচীন। কুরআন মাজীদে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-

وَ عَهِدْنَاۤ اِلٰۤی اِبْرٰهٖمَ وَ اِسْمٰعِیْلَ اَنْ طَهِّرَا بَیْتِیَ لِلطَّآىِٕفِیْنَ وَ الْعٰكِفِیْنَ وَ الرُّكَّعِ السُّجُوْدِ.

আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার ঘরকে সেইসকল লোকের জন্য পবিত্র কর, যারা (এখানে) তাওয়াফ করবে, ইতিকাফ করবে এবং রুকু ও সিজদা করবে। -সূরা বাকারা (২) : ১২৫

সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعْتَكِفُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ فَكُنْتُ أَضْرِبُ لَهُ خِبَاءً فَيُصَلِّي الصُّبْحَ ثُمَّ يَدْخُلُهُ

আয়িশা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রমাজানের শেষ দশকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ করতেন। আমি তাঁর তাঁবু তৈরি করে দিতাম। তিনি ফজরের সালাত আদায় করে তাতে প্রবেশ করতেন।’ (বুখারি, হাদিস : ২০৩৩)

এই হাদিসে দেখা যাচ্ছে মহানবী (সা.) রমজানের শেষ দশকে নিয়মিত ইতিকাফ করতেন। যা প্রমাণ করে যে, ইতিকাফ শুধু ঐচ্ছিক আমল নয়। বরং ফক্বীহগণের মতে ইতিকাফ সুন্নতে মুয়াক্কাদা কেফায়াহ। যা একটি মহল্লা থেকে কিছু মানুষকে আদায় করতেই হবে।

যদি কোনো মহল্লার কোনো মুসল্লিই ইতিকাফ না করেন তাহলে সবাই গোনাহগার হবেন। তাই, প্রতিটা মসজিদে অন্তত একজন হলেও ইতিকাফে বসা জরুরি।

ইতিকাফের স্থান

সওয়াবের দিক থেকে ইতিকাফের জন্য সর্বোত্তম স্থান হল মসজিদে হারাম। এরপর মসজিদে নববী। তারপর মসজিদে আকসা। এরপর যেকোনো জামে মসজিদ। তারপর যেকোনো পাঞ্জেগানা মসজিদ।

তবে নারীদের জন্য ইতিকাফের স্থান হল ঘরের নির্দিষ্ট কোনো স্থান। (দ্র. শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/৪৭০; মাবসূত, সারাখসী ৩/১১৫; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৮০-২৮১; রদ্দুল মুহতার ২/৪৬৯)

ইতিকাফের প্রস্তুতি

ইতিকাফের উদ্দেশ্যে মানুষ যেহেতু আল্লাহর ঘর মসজিদে আসে, সেজন্য মানবীয় সাধ্যের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে আসা উচিত। মনে রাখা উচিত, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পূত-পবিত্র। আল্লাহর ঘর সর্বোচ্চ সম্মানিত ও পবিত্রতম স্থান। তাই প্রথমে নিজের বাহ্যিক পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা গ্রহণ করা উচিত। স্মরণ করা উচিত কুরআন মাজীদের নিম্নোক্ত আয়াত-

یٰبَنِیْۤ اٰدَمَ خُذُوْا زِیْنَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ.

হে আদম-সন্তানেরা! যখনই তোমরা কোনো মসজিদে আসবে, তখন নিজেদের শোভা অবলম্বন করবে (অর্থাৎ পোশাক পরে নেবে)। -সূরা আ‘রাফ (০৭) : ৩১

ইতিকাফে বিশেষ করণীয়

ইতিকাফের সময় বান্দা যেহেতু মসজিদে থাকে, তাই মসজিদের যাবতীয় আদব রক্ষা করে থাকা উচিত। পুরো সময় সতর্কতার সাথে থাকা উচিত, যেন কোনো ধরনের কোনো গোনাহ না হয়। এছাড়াও নিম্নোক্ত আমলগুলোর ব্যাপারে খেয়াল রাখা।

মসজিদের প্রধান আমল হল, জামাতের সাথে ফরয নামায আদায় করা। তাই সর্বোচ্চ গুরুতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামায তাকবীরে উলার সাথে আদায় করা।

ইতিকাফের সময় মানুষ যেহেতু দুনিয়াবি সকল কাজ কর্ম থেকে বিরত থাকে। তাই খুশু-খুযূর সাথে নামায আদায়ের বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। এসময় থেকেই খুশু-খুযূকে অভ্যাসে পরিণত করা।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত