• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক আল-কুদস দিবস পালিত

প্রকাশিত: ১৭:৫৫, ১৩ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক আল-কুদস দিবস পালিত

মুসলমানদের প্রথম কেবলা আল-আকসা মুক্তির দাবিতে রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক কুদস দিবস পালিত হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বাদ জুমা রাজশাহী জিরো পয়েন্টে ইমামিয়া জনকল্যান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আল-কুদস দিবস উপলক্ষে মানবন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। 

সমাবেশে বক্তরা বলেন, এই বছরের আন্তর্জাতিক কুদস দিবস অন্যান্য বছরের তুলনায় একেবারেই অন্যরকম। কেন না, এ বছর ফিলিস্তিনসহ মুসলিম দেশগুলোতে মানবতার যে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটছে, ইতিহাসের ভয়াবহতম ও নৃশংসতম গণহত্যা চলছে, তা আমাদের হৃদয়কে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত করে তুলছে। ইহুদিবাদী ইসরাইল কেবল ফিলিস্তিনেই বর্বর গণহত্যা চালাচ্ছে তাই নয়, দখলদার এই দেশটি এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সাথে নিয়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান, লেবানন ও ইয়ামেনেও বর্বর আগ্রাসন চালাচ্ছে। তাদের এই নৃশংস হামলা থেকে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরাও রেহাই পাচ্ছে না। এমন ভয়াবহতার মুখেও বিশ্বের নেতৃস্থানীয় রাষ্ট্র ও সংস্থাগুলো আশ্চর্যজনক নীরব ভূমিকা পালন করছে। আর এর বিপরীতে এমন নৃশংসতম জুলুমের মধ্যেও আমরা ফিলিস্তিন, লেবানন, ইয়েমেন ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জনগণের অবিশ্বাস্য ঈমানী দৃঢ়তা এবং প্রতিরোধ লক্ষ্য করছি। আমরা বিশ্বাস করি, অসহায় ও নিরপরাধ মানুষের রক্ত বৃথা যেতে পারেনা। এই যুদ্ধে ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় হবেই। মুক্ত হবে আল আকসা। 

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের রুপকার ইমাম খোমেনি (রহ.) রমজানের শেষ শুক্রবারকে আন্তর্জাতিক আল-কুদস দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার এ ঘোষণার কারণেই আজ আল-কুদস দিবস একটি বৈশ্বিক রুপ পেয়েছে। ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে আজ সারা বিশ্বে এমনকি পশ্চিমা দেশগুলোতেও ব্যপক গণজাগরণ, বিক্ষোভ ও মিছিল দেখা যাচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ মানবিকতার দাবিতে রাস্তায় নেমে আসছে। ইসরাইল ও তার মিত্র রাষ্ট্রগুলোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা আশাবাদী এভাবেই একসময় এই নির্যাতক জুলুমকারী রাষ্ট্রের পতন ঘটবে ও ফিলিস্তিন ও আল কুদস আবার স্বাধীন হবে। আর ফিলিস্তিনীদের এই পথচলায় গত ৪ দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তাদের পাশে রয়েছে, আগামীতেও থাকবে।

বক্তারা আরো বলেন, পবিত্র নগরী আল কুদস বা বায়তুল মুকাদ্দাস হচ্ছে পবিত্র মক্কা মু‘আযযামা ও মদিনা মুনাওয়ারার পরে ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান, যেখানে অবস্থিত ইসলামের প্রথম কিবলা মসজিদুল আকসা। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ মসজিদুল আকসা থেকেই মিরাজে গমন করেছিলেন। তাই বায়তুল মুকাদ্দাস দুনিয়ার অন্য অনেক ভূখণ্ডের মতো কোনো সাধারণ ভূখণ্ড নয়। বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী ও উপনিবেশবাদী চক্র সাম্প্রদায়িক ইহুদি জায়নিস্টদের ইন্ধন জুগিয়ে ফিলিস্তিনের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তারা একের পর এক গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে এবং মুসলমানদের বর্বরোচিতভাবে শহর ও গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করছে। ফিলিস্তিন জবরদখলদার সাম্প্রদায়িক ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিরা সংগ্রাম ও যুদ্ধ করে চলেছে।বিশ্বের মুসলমানদের উচিৎ সংগ্রামী ফিলিস্তিনিদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করা।

সমাবেশে বিশিষ্টজনদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা নাদিম রেযা,  সৈয়দা রেবেকা আলি আবেদী, সৈয়দা রুবিনা ইয়াসমিন ও রাজশাহীর মুহাম্মাদ আমিন ফারসি শিক্ষাকেন্দ্রের পরিচালক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন শেখ আলি আকবর। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে।

বিভি/এসজি

মন্তব্য করুন: