জুমার দিন যেসব ভুল করা যাবে না
ছবি: সংগৃহীত
জুমার দিন মুসলমানদের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। এ দিনের রয়েছে বিশেষ ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমল। তবে অনেক সময় অজান্তেই এমন কিছু ভুল করে বসেন, যা জুমার নামাজের আদব ও সুন্নাহর পরিপন্থী। তাই জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভুল সম্পর্কে জেনে রাখা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরি।
ইসলামে শুক্রবারকে সাপ্তাহিক ইবাদত ও কল্যাণের বিশেষ দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বন্ধ রাখো।’ (সুরা আল-জুমুআ, আয়াত: ৯)
১. জুমার নামাজে দেরি করে যাওয়া
জুমার দিন মসজিদে আগে যাওয়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। কিন্তু অনেকেই অলসতা করে খুতবা শুরু হওয়ার ঠিক আগে কিংবা নামাজের সময় উপস্থিত হন। এতে জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ সওয়াব থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই যথাসময়ে প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে যাওয়া উচিত।
২. খুতবার সময় কথা বলা
জুমার খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খুতবা চলাকালে কথা বলা, অন্যকে চুপ করতে বলা কিংবা অপ্রয়োজনে কাউকে বিরক্ত করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এমনকি কাউকে চুপ করতে বলার ক্ষেত্রেও হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
৩. অন্যের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনে যাওয়া
মসজিদে দেরিতে এসে মুসল্লিদের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনের দিকে যাওয়াও একটি অনুচিত কাজ। এতে অন্যদের কষ্ট হয় এবং ইবাদতের পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। তাই মসজিদে আগে গিয়ে জায়গা নেওয়া এবং যেখানে স্থান পাওয়া যায়, সেখানেই বসা উচিত।
৪. খুতবার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা
খুতবা চলাকালে মোবাইল ফোনে কথা বলা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখা কিংবা অপ্রয়োজনে ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকা মনোযোগ নষ্ট করে। তাই মসজিদে প্রবেশের পর ফোন নীরব রাখা এবং খুতবার সময় পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া উচিত।
৫. গোসল ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি অবহেলা করা
জুমার দিন পরিচ্ছন্ন থাকা, গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নাহসম্মত আদবের অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে শরীর বা পোশাক থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে অন্য মুসল্লিদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা জরুরি।
৬. জুমার নামাজের আগে বেচাকেনায় ব্যস্ত থাকা
জুমার নামাজের আহ্বান হওয়ার পর যাদের ওপর জুমা ফরজ, তাদের জন্য নামাজে যাওয়ার পরিবর্তে বেচাকেনায় ব্যস্ত থাকা নিষিদ্ধ। মহান আল্লাহ সুরা আল-জুমুআর ৯ নম্বর আয়াতে এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আজানের পর জুমার নামাজ আদায়ে গুরুত্ব দিতে হবে।
৭. কাতারে ফাঁকা জায়গা রেখে দাঁড়ানো
জামাতে নামাজের সময় কাতার সোজা করা এবং ফাঁক পূরণ করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কাতারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে পাশের মুসল্লির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাঁড়াতে হবে।
৮. জুমার দিনের বিশেষ আমল অবহেলা করা
জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পাঠ, দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত এবং আল্লাহর জিকির করা উত্তম আমল। বিশেষ করে নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠের ব্যাপারে হাদিসে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এ দিনের বরকত লাভের আশায় এসব আমলে মনোযোগী হওয়া উচিত।
৯. সূরা কাহফ পাঠের ফজিলত থেকে বঞ্চিত হওয়া
জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসের বর্ণনা রয়েছে। তাই অনেক মুসলমান এ দিনে সূরা কাহফ তিলাওয়াত করে থাকেন। তবে এটিকে জুমার নামাজের ফরজ অংশ মনে করা যাবে না; এটি একটি ফজিলতপূর্ণ আমল।
১০. দোয়া করার সুযোগ অবহেলা করা
জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার বিশেষ আশা করা যায়। এ সময়টি সম্পর্কে সহিহ হাদিসে বর্ণনা রয়েছে। তাই জুমার দিন বেশি বেশি দোয়া করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও কল্যাণ প্রার্থনা করা উচিত।
জুমার দিনের মর্যাদা কেবল জুমার নামাজ আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এ দিনের আদব রক্ষা করা, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা, অন্য মুসল্লিদের কষ্ট না দেওয়া এবং নেক আমলে সময় কাটানোও গুরুত্বপূর্ণ। তাই অজান্তে করা ভুলগুলো সংশোধন করে সুন্নাহসম্মত উপায়ে জুমার দিন অতিবাহিত করার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।
বিভি/এনএইচ













মন্তব্য করুন: