• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

দুনিয়াতে প্রকৃত সফল ব্যক্তি কে? ইসলাম কী বলে?

প্রকাশিত: ১৭:৫৩, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
দুনিয়াতে প্রকৃত সফল ব্যক্তি কে? ইসলাম কী বলে?

ছবি: সংগৃহীত

দুনিয়াতে সফল হতে কে না চায়! কেউ অর্থ-সম্পদ অর্জন করতে চান, কেউ বড় পদে যেতে চান, আবার কেউ চান মানুষের কাছে সম্মান ও জনপ্রিয়তা পেতে। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত সফল ব্যক্তি কে? শুধু ধন-সম্পদ, ক্ষমতা ও খ্যাতি অর্জন করলেই কি একজন মানুষ সফল হন, নাকি সফলতার প্রকৃত মাপকাঠি আরও গভীর?

ইসলাম বলছে, দুনিয়ার জীবনে প্রকৃত সফলতা শুধু বাহ্যিক অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং ঈমান, সৎকর্ম, উত্তম চরিত্র, হালাল উপার্জন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টাই একজন মানুষের জীবনে প্রকৃত সফলতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কোরআনে সফলতার সংজ্ঞা
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনরা সফলকাম হয়েছে।’ (সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ১)
এর পরের আয়াতগুলোতে সফল মুমিনদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, তারা নামাজে বিনয়ী, অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকে, জাকাত আদায় করে এবং নিজেদের আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা করে। (সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ২-১১)

এ থেকে বোঝা যায়, ইসলামে সফলতা কেবল সম্পদ কিংবা সামাজিক মর্যাদার বিষয় নয়। বরং একজন মানুষের বিশ্বাস, কাজ, চরিত্র ও দায়িত্ববোধও তার সফলতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

অর্থ-সম্পদ থাকলেই কি মানুষ সফল?
অর্থ-সম্পদ মানুষের জীবনে প্রয়োজনীয়। হালাল উপার্জনের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের দায়িত্ব পালন করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশংসনীয় কাজ। তবে সম্পদ থাকলেই কেউ প্রকৃত সফল হয়ে যান না। সেই সম্পদ কীভাবে অর্জন করা হয়েছে এবং কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আখিরাতের আবাস অনুসন্ধান কর, যা আল্লাহ তোমাকে দান করেছেন; আর দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না।’ (সূরা আল-কাসাস, আয়াত ৭৭)
এই আয়াত দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার শিক্ষা দেয়। অর্থাৎ, দুনিয়ার বৈধ সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা যাবে, তবে তা যেন মানুষকে ন্যায়নীতি ও আল্লাহর নির্দেশনা থেকে দূরে সরিয়ে না দেয়।

প্রকৃত সফল মানুষের বৈশিষ্ট্য কী?
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, প্রকৃত সফল ব্যক্তি সেই মানুষ, যিনি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখেন, নিয়মিত নামাজ আদায় করেন, হালাল-হারাম মেনে চলেন এবং মানুষের অধিকার রক্ষা করেন। তিনি অন্যের সঙ্গে প্রতারণা করেন না, অহংকারে নিজেকে বড় মনে করেন না এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের কল্যাণে কাজ করেন।

এ ছাড়া ভুল হলে তওবা করা, নিজের চরিত্র সংশোধন করা এবং দায়িত্ব পালনে আন্তরিক থাকাও একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়াসম্পন্ন।’ (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১৩)

অর্থাৎ, মানুষের প্রকৃত মর্যাদা শুধু তার পরিচয়, বংশ, সম্পদ কিংবা সামাজিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে না; বরং আল্লাহভীতি ও সৎ জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দুনিয়ার সাফল্য ও আখিরাতের মুক্তি
ইসলামে দুনিয়ার সফলতা এবং আখিরাতের সফলতাকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হয় না। একজন মানুষ হালালভাবে উপার্জন করতে পারেন, জ্ঞান অর্জন করতে পারেন, পরিবারকে ভালো রাখতে পারেন এবং সমাজের কল্যাণে অবদান রাখতে পারেন। এসব কাজ যদি সৎ নিয়ত ও বৈধ পন্থায় করা হয়, তবে তা ইবাদতের মর্যাদাও পেতে পারে।

তবে দুনিয়ার সব অর্জন একদিন শেষ হয়ে যাবে। তাই একজন মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত দুনিয়ায় দায়িত্বশীল জীবনযাপন করা এবং আখিরাতের জন্য সৎকর্ম সঞ্চয় করা।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হলে প্রকৃত সফলতা অর্জিত হবে। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫)

দুনিয়াতে প্রকৃত সফল ব্যক্তি কে, এর উত্তর শুধু তার ব্যাংক ব্যালান্স, পদমর্যাদা কিংবা জনপ্রিয়তা দিয়ে দেওয়া যায় না। বরং তিনি কীভাবে জীবনযাপন করছেন, কতটা সৎ, কতটা দায়িত্বশীল এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে কতটা আন্তরিক, তা বিবেচনা করা জরুরি।

ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত সফলতা হলো দুনিয়ায় হালাল ও সৎ পথে জীবনযাপন করা, মানুষের অধিকার রক্ষা করা, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা এবং আখিরাতে মুক্তি ও জান্নাত লাভ করা।

বিভি/এনএইচ

মন্তব্য করুন: