জুমার দিনে দরুদ পড়ার বিশেষ ফজিলত, যে আমলে রয়েছে বড় প্রতিদান
ছবি: সংগৃহীত
মুসলমানদের জন্য জুমার দিন অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি দিন। এ দিনের নানা আমলের মধ্যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে নবীজির প্রতি দরুদ পাঠের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে জুমার দিনে দরুদ পাঠের ব্যাপারে উম্মতকে উৎসাহিত করেছেন স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.)।
পবিত্র কোরআনের সূরা আহযাবের ৫৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম জানাও।’
এই আয়াতের মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। একজন মুসলমানের জন্য নবীজির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ এবং তাঁর প্রতি সম্মান জানানোর অন্যতম মাধ্যম হলো বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা।
জুমার দিনে দরুদ পাঠের বিশেষ গুরুত্ব
হজরত আওস ইবনে আওস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। সুতরাং এ দিনে তোমরা আমার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)
হাদিসটি থেকে বোঝা যায়, জুমার দিনে দরুদ পাঠের প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই এ দিনে অন্যান্য নেক আমলের পাশাপাশি বেশি বেশি দরুদ পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
একবার দরুদ পাঠে দশটি রহমত
দরুদ পাঠের অন্যতম ফজিলত হলো, এর বিনিময়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত লাভের সুসংবাদ। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত নাজিল করেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪০৮)
এ হাদিস থেকে জানা যায়, একবার দরুদ পাঠের বিনিময়েও রয়েছে মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। তাই জুমার দিনসহ প্রতিদিনই বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা একজন মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল।
কীভাবে দরুদ পাঠ করবেন?
জুমার দিনে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা সবার জন্য বাধ্যতামূলক না করে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা যায়। কাজের ফাঁকে, যাতায়াতের সময় কিংবা অবসর মুহূর্তে দরুদ পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব। দরুদে ইবরাহিম, যা নামাজের শেষ বৈঠকে পাঠ করা হয়, সেটিও দরুদ পাঠের একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ।
এ ছাড়া সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়
‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ।’
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
জুমার দিনকে ইবাদত ও নেক আমলে সমৃদ্ধ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো মহানবী (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ। কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত ফজিলতের কথা স্মরণ রেখে প্রত্যেক মুসলমানের উচিত আন্তরিকতার সঙ্গে দরুদ পাঠ করা এবং নবীজির সুন্নাহ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনার চেষ্টা করা।
বিভি/এনএইচ













মন্তব্য করুন: