• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

মাদরাসায় অনাচার রোধে শীর্ষ আলেমদের কঠোর পদক্ষেপ চান শায়খ আহমাদুল্লাহ

প্রকাশিত: ২১:২৬, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২১:২৬, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মাদরাসায় অনাচার রোধে শীর্ষ আলেমদের কঠোর পদক্ষেপ চান শায়খ আহমাদুল্লাহ

মাদরাসায় অনাচার ও অপরাধের ঘটনা রোধে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং শীর্ষস্থানীয় আলেমদের জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ। একই সঙ্গে অপরাধ প্রমাণের আগেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।

বিবৃতিতে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, মাদরাসায় অনাচারের যেসব ঘটনা শোনা যায়, তার অধিকাংশই ভুঁইফোঁড় ও মানহীন বেসরকারি মাদরাসায় ঘটে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানও মাদরাসা হওয়ায় তাদের অপকর্মের প্রভাব পুরো মাদরাসা ব্যবস্থার ওপর পড়ছে। তাই এ ধরনের অপরাধ বন্ধে মাদরাসা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি জানান, মাদরাসায় অনাচার প্রতিরোধে বেশ কিছু পদক্ষেপের প্রস্তাবনা তৈরি করে আগেই ৩০ জনের বেশি শীর্ষ আলেমের কাছে পাঠিয়েছিলেন তিনি। পরে জনসচেতনতা তৈরির জন্য নিজের ফেসবুক পেজেও প্রস্তাবনাটি প্রকাশ করেন।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনাচারের বিষয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কথা বলে আসছেন। তবে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বা পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে তাঁর কোনো দাপ্তরিক সংশ্লিষ্টতা না থাকায় লেখা ও বক্তব্যের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি এবং দাবি জানানো ছাড়া কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তাঁর নেই।

আবাসিক মাদরাসাগুলোকে দেশের লাখ লাখ এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীর আশ্রয়স্থল এবং দ্বীনি শিক্ষার দুর্গ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষিত রাখা এবং মাদরাসার প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখতে শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও শীর্ষ আলেমদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে। অন্যথায় এর দায় তাঁদেরই বহন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মাদরাসায় অপরাধের অভিযোগ উঠলে তা আড়াল করার চেষ্টা না করার আহ্বান জানিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি অপরাধে অভিযুক্ত শিক্ষককে রক্ষা করতে গিয়ে সত্য গোপন করে এবং সমাধানের পথে না হাঁটে, তবে তা মাদরাসা ব্যবস্থার জন্য বড় ক্ষতির কারণ হবে।

বিবৃতিতে টঙ্গীর একটি ঘটনাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধ প্রমাণের আগেই মাদরাসার এক শিক্ষকের বিচার করে ফেলা হলে এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে ওই শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এমন ক্ষতি পরে কীভাবে পূরণ করা সম্ভব, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

অতীতের কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন বাস্তবতা সামনে এসেছে। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে আইন হাতে না নিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করা জরুরি।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগসহ কোনো ইস্যুতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা নিয়ে তিনি আগেও একাধিকবার কথা বলেছেন।

বিবৃতির শেষাংশে তিনি মাদরাসার অনাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার পাশাপাশি ক্ষণিকের ক্রোধ যেন অন্য কারও অপূরণীয় ক্ষতির কারণ না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: