যে আমলে মেলে আল্লাহর নৈকট্য
ছবি: সংগৃহীত
রাতের নীরবতায় মহান আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন হওয়া মুমিনের জীবনে অনন্য প্রশান্তি নিয়ে আসে। দিনের ব্যস্ততা শেষে যখন মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে, তখন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় ঘুম ছেড়ে নামাজে দাঁড়ানো বিশেষ মর্যাদার আমল। ইসলামে এই নামাজের নাম তাহাজ্জুদ। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
তাহাজ্জুদ কী?
তাহাজ্জুদ হলো রাতের নফল নামাজ, যা সাধারণত কিছুক্ষণ ঘুমানোর পর রাতে আদায় করা হয়। এ নামাজের সময় এশার নামাজের পর থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত। তবে রাতের শেষ তৃতীয়াংশে তাহাজ্জুদ আদায় করা বিশেষভাবে ফজিলতপূর্ণ।
তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে রাতের একটি অংশে তাহাজ্জুদ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করুন, এটি আপনার জন্য অতিরিক্ত ইবাদত। আশা করা যায়, আপনার রব আপনাকে প্রশংসিত স্থানে প্রতিষ্ঠিত করবেন।’ (সুরা আল-ইসরা, আয়াত: ৭৯)
এ আয়াত থেকে রাতের ইবাদতের বিশেষ মর্যাদা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তাহাজ্জুদ মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, আত্মশুদ্ধি এবং তাঁর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম।
দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ সময়
সহিহ হাদিসে রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রতি রাতে শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকলে আমাদের রব দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন, ‘কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব? কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব?’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৪৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৫৮)
এই হাদিস রাতের শেষ ভাগে ইবাদত, দোয়া ও ইস্তিগফারের গুরুত্ব তুলে ধরে। এ সময়ে একজন মুসলিম নিজের প্রয়োজন, দুশ্চিন্তা ও গুনাহের কথা স্মরণ করে আল্লাহর কাছে সাহায্য ও ক্ষমা চাইতে পারেন।
কতো রাকাত পড়বেন?
তাহাজ্জুদ নামাজের নির্দিষ্ট সর্বনিম্ন রাকাতসংখ্যা নিয়ে বাধ্যতামূলক কোনো বিধান নেই। দুই রাকাত করে এ নামাজ আদায় করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রাতের নামাজ দুই রাকাত দুই রাকাত।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৯০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৪৯)
তাই কেউ দুই রাকাত দিয়ে শুরু করতে পারেন। সামর্থ্য অনুযায়ী আরও পড়তে পারেন। তবে তাহাজ্জুদকে ফরজ মনে করা যাবে না; এটি নফল ইবাদত।
যেভাবে অভ্যাস গড়ে তুলবেন
প্রথমেই প্রতিদিন অনেক রাকাত পড়ার লক্ষ্য না নিয়ে দুই রাকাত দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। ঘুমানোর আগে নিয়ত করা, প্রয়োজন হলে অ্যালার্ম দেওয়া এবং ঘুম থেকে উঠে অজু করে নামাজ আদায় করার মাধ্যমে ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব। নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন, পরিবারের কল্যাণ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের মঙ্গলের জন্য দোয়া করা যায়।
তাহাজ্জুদ কোনো নির্দিষ্ট পার্থিব ফল পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়; বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি, ক্ষমা ও নৈকট্য লাভের ইবাদত। নিয়মিত এ আমল একজন মুমিনকে আল্লাহমুখী জীবন গঠনে অনুপ্রাণিত করতে পারে।
বিভি/এনএইচ













মন্তব্য করুন: