• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

তেলের জন্য হাহাকার, রাতভর লাইনে থেকেও মিলছে না পেট্রোল

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:০৮, ৩ এপ্রিল ২০২৬

ফন্ট সাইজ
তেলের জন্য হাহাকার, রাতভর লাইনে থেকেও মিলছে না পেট্রোল

তেল এখন যেন সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। মাত্র ৩০০ টাকার পেট্রোলের জন্যই গভীর রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন মোটরসাইকেল চালকরা। রাত পেরিয়ে সকাল হতেই প্রায় তিন হাজার যানবাহনের দীর্ঘ সারি জমে ওঠে। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে তেলের জন্য এমন চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল আটটা থেকে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডের মেসার্স খান ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি শুরু হয়, যা চলে বিকেল পৌনে চারটা পর্যন্ত। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা যায় পাম্প এলাকায়।

জানা যায়, সেদিন সাড়ে চার হাজার লিটার পেট্রোল সরবরাহ করা হলেও দুপুরের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যায়। এতে লাইনে থাকা বহু চালক তেল না পেয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হন। প্রচণ্ড গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে হতাশা নিয়েই ফিরেছেন অনেকে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

খান ব্রাদার্স পাম্পের ট্যাগ অফিসার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম জানান, সরবরাহকৃত তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে তেল দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় শেষের দিকের অনেক চালককে দেওয়া যায়নি।

পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, দৈনিক চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় অল্প সময়েই তেল ফুরিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত চার সপ্তাহ ধরে এলাকায় পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট চলছে। কোথাও অল্প পরিমাণে তেল এলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকেই প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারছেন না, আবার কারও কারও পথে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় ঠেলে গাড়ি নিয়ে যেতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগী চালক মোস্তাকুর রহমান আরমান বলেন, ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুরে মাত্র ৩০০ টাকার তেল পেয়েছেন, তাও চরম কষ্ট সহ্য করে। নাইম ইসলাম জানান, রাত চারটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও না খেয়ে থাকতে হয়েছে। অন্যদিকে মোবারক হোসেন অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে তাকে।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, তেল সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অবৈধ মজুদকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং সংকট নিরসনে প্রশাসন কাজ করছে।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: