• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নতুন নিকোটিন পণ্যে তরুণদের আকৃষ্ট করছে কোম্পানিগুলো, নিষিদ্ধের দাবি

প্রকাশিত: ১৮:৫৩, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৮:৫৪, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
নতুন নিকোটিন পণ্যে তরুণদের আকৃষ্ট করছে কোম্পানিগুলো, নিষিদ্ধের দাবি

তরুণদের নিকোটিনে আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন রং, নকশা ও ফ্লেভারের ই-সিগারেট বাজারে আনছে কোম্পানিগুলো। সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকোসহ বিভিন্ন ইমার্জিং তামাকপণ্যকে বৈধতা দেওয়ার ফলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এসব পণ্যের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে দাবি করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও তামাক নিয়ন্ত্রণকর্মীরা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট (বাটা) ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘নতুন ও চকচকে মোড়কে পুরোনো বিষ; মূল টার্গেট তরুণ প্রজন্ম’ শীর্ষক অনলাইন সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভা থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচসহ সব ইমার্জিং তামাকপণ্য নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের কমিউনিকেশন অফিসার শানজিদা আক্তারের সঞ্চালনায় সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল হেলাল আহমেদ, বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসির (বিএনটিটিপি) প্রজেক্ট ডিরেক্টর (তামাক নিয়ন্ত্রণ) হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেলের (টিসিআরসি) প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ফারহানা জামান লিজা এবং ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা মিঠুন বৈদ্য।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেস বিভাগের শিক্ষার্থী ফারদিন ইশরাক ও তানজিম রহমান। প্রবন্ধে শিক্ষার্থীরা তুলে ধরেন, কেতাদুরস্ত ভাব বজায় রাখার পাশাপাশি পড়াশোনার চাপ ও উৎকণ্ঠা থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে এবং প্রচলিত সিগারেটের ব্যবহার কমাতে অনেক তরুণ এসব পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব, কৌতূহল, বন্ধু বা সহকর্মীর প্রভাব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চটকদার বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সভায় বক্তারা বলেন, হিটেড টোব্যাকো, ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ ও ভেপের মতো নতুন ধরনের তামাক ও নিকোটিন পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গবেষণা কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তারা বলেন, এসব পণ্যের প্রকৃত স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিশেষ করে তরুণদের মস্তিষ্কের বিকাশ, মনোযোগ, শেখার ক্ষমতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানানো জরুরি। আকর্ষণীয় মোড়ক, বিভিন্ন ফ্লেভার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার মাধ্যমে তরুণদের কাছে এসব পণ্য সহজলভ্য করে তোলার প্রবণতা প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্মিলিতভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান তারা।

পাশাপাশি নাটক, সিনেমাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তামাকজাত পণ্যের প্রচার ও ইতিবাচক উপস্থাপন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ই-সিগারেট ও অন্যান্য নতুন নিকোটিন পণ্যের বিস্তার রোধে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

বক্তারা আরও বলেন, তামাক দেশের অসংক্রামক রোগজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এ অবস্থায় নতুন ধরনের তামাক ও নিকোটিন পণ্যে তরুণ সমাজের আসক্তি ভবিষ্যতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ই-সিগারেট হাতে হাতে পৌঁছানোর আগেই কর ও মূল্য বাড়িয়ে এসব পণ্যকে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার ঊর্ধ্বে নিয়ে যাওয়ারও দাবি জানানো হয়।

সভা থেকে ই-সিগারেটসহ নতুন ধরনের তামাক ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ বা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে সামাজিকভাবে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি তামাক কোম্পানির অনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রতিহত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ক্ষতি মোকাবিলা এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক কার্যক্রমে টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হেলথ প্রোমোশন ফাউন্ডেশন গঠনের জোর দাবি জানান বক্তারা।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: