• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪

রাজমিস্ত্রি জুয়েল এখন বিসিএস ক্যাডার

নাটোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:১৯, ১০ আগস্ট ২০২৩

আপডেট: ১৮:২১, ১০ আগস্ট ২০২৩

ফন্ট সাইজ
রাজমিস্ত্রি জুয়েল এখন বিসিএস ক্যাডার

জুয়েল আলী

টানাটানির সংসার নূন আনতে পান্তা ফুরায় এমনই অবস্থা দিন পারকরত জুয়েলল। জুয়েলের ৮ বছর বয়সে দিনমজুর বাবা মারা যায় । তার পর থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসারের হাল ধরতে হয় তাকে। সেখানে নিজের পড়াশোনার খরচ যোগানো খুবই দূর্সাধ্য হয়ে পড়ে। অভাব ও শত কষ্টের মধ্যে থেকেও জীবন যুদ্ধে থেমে যায়নি নাটোরের লালপুর উপজেলার জুয়েল আলী। টিউশুনি করে নিজের লেখাপড়ার খরচ যুগিয়েছেন তিনি। সেই জুয়েল এবার ৪১ তম বিসিএসে প্রকৌশলী ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। 


জুয়েল আলী উপজেলার দক্ষিণ লালপুর গ্রামের মৃত হাসান মন্ডলের ছেলে। তিনি লালপুর শ্রীসুন্দরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ- ৫ পেয়ে পাস করেন এবং লালপুর ডিগ্রী কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। পরে রাজশাহী প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে স্নাতক  শেষ করেন। 

জুয়েলের মা জামেলা বেগম জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর অর্থাভাবে বার বার ছেলের পড়াশোনা বন্ধ করতে হয়েছে। তবে বিভিন্ন সময় ভালো রেজাল্ট করার কারণে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা পাওয়ায় সেইসব টাকা দিয়ে লেখাপড়া করেছে, নিজে টিউশুনিও করেছে। খুব কষ্ট করে লেখাপড়া শিখেছে।  কষ্টের দিনগুলো তার এখন শেষ হয়েছে, আমার ছেলের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। দীর্ঘ কষ্টের পথ অতিক্রমের সেইআমার ছেলের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। 

জুয়েলের মা জামেলা বেগম

জুয়েল  বলেন, ৮ বছর বয়সে আমার বাবা মারা যান। তারপর পরিবারের বড় ছেলে হওয়ায় সেই বয়সেই মায়ের পাশাপাশি আমাকেও সংসারে হাল ধরতে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে হয়েছে। কয়েকবার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। শিক্ষকদের সহযোগিতায় আবারও পড়াশোনা শুরু করি। অষ্টম শ্রেণীতে বৃত্তি, এসএসসি ও এইচএসসিতে এ প্লাস পাওয়ার পর থেকে ডাচ বাংলা ব্যাংক ও প্রার্কীতি ফাউন্ডেশন থেকে বৃত্তি পেয়েছিলাম। এই বৃত্তির মাধ্যমে অনার্স মাস্টার্স শেষ করেছি। পরবর্তীতে বিসিএসের জন্য আমার স্ত্রী মানসিক ও আর্থিকভাবে সাপোর্ট দিয়েছে। 
তিনি আরো বলেন, আমি সব সময় চাইতাম মায়ের মুখে হাসি ফুটাবো। একটা সরকারি চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন ছিল। ভালো পোশাক ভালো খাওয়া দাওয়া এসব অতটা আশা করিনি কোনদিন। আজ সাফল্যের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেছি। দায়িত্ব পালনকালে সব সময় আমি ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে আমার ওপর অর্পিত কাজটা সঠিকভাবে করবো
 

মন্তব্য করুন: