দুই গোলে এগিয়ে থেকেও থাইল্যান্ডের কাছে হারলো বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত
বাজলো রেফারির শেষের বাঁশি। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আক্তার বক্সের মধ্যে শুইয়ে রইলেন। ডিফেন্ডার আফিদা খন্দকার তাকে উঠানোর চেষ্টা করলেন। মিলির মতো আরো অনেকে বিমর্ষ। দুই গোলে এগিয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হারের বেদনায় নীল পুরো বাংলাদেশ দল।
আজকের (১ এপ্রিল) রাতে বাংলাদেশের ফুটবলের ইতিহাস খানিকটা ভিন্নভাবেই হতে পারতো। সিনিয়র নারী দল সপ্তাহ তিনেক আগে প্রথমবার এশিয়া কাপ খেলেছে। তিন ম্যাচেই হেরেছে এবং একটিও গোল করতে পারেনি। অ-২০ নারী দলও প্রথমবার এশিয়ার মূল পর্বে খেলেছে। প্রথম ম্যাচেই দুই গোল করেছে। ম্যাচে জয় কিংবা ড্র হওয়া ছিলো সময়ের ব্যাপার ৬৯ মিনিট পর্যন্ত অন্তত। এরপর সেই ম্যাচে মাত্র পনেরো মিনিটের ব্যবধানে ৩ গোল হজম করেছে। এশিয়ান মঞ্চে প্রথম পয়েন্ট থেকে বঞ্চিত থাকলো বাংলাদেশ।
মেধাবী ফুটবলার মোসাম্মৎ সাগরিকা প্রথমার্ধে বাংলাদেশকে একক প্রচেষ্টায় গোল করে লিড এনে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে তিনি আরেকটি গোল করেন। দুই গোলের পর যখন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা স্বাগতিক থাইল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের আশা করছে। ঠিক তখনই বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা চরম ভুল করতে শুরু করেন। সুরমা জান্নাত ও নবীরন মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে থাইল্যান্ডের দুই ফরোয়ার্ডকে দুই আক্রমণে পেছন থেকে ফাউল করেন। যা স্পষ্টত ফাউল এবং পেনাল্টি। দুই পেনাল্টি থেকেই থাইল্যান্ড গোল করে।
ম্যাচ সমতায় আনার পর থাইল্যান্ড খেলায় আরো প্রাধান্য বিস্তার করে। বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের ওয়ান-টু পাসে কাটিয়ে আরেকটি গোল আদায় করে থাইল্যান্ড। দু'টি পেনাল্টি হওয়ায় বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা আর সংকোচে এই আক্রমণে সেভাবে বাধাও দেয়নি থাই ফরোয়ার্ডকে। ৮০ মিনিটে ৩-২ গোলে পিছিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ সমতা আনার চেষ্টা করেছে। এরপর আর সেই রকম আক্রমণ হয়নি। ফলে সম্ভাবনা জাগিয়ে শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাটলার শিষ্যদের।
নারী ফুটবলে থাইল্যান্ড অত্যন্ত শক্তিশালী দল। সিনিয়র দল একাধিকবার বিশ্বকাপে খেলেছে। এশিয়া কাপে নিয়মিত খেলা দলটি এবারই প্রথম খেলতে পারেনি। বাংলাদেশ সিনিয়র দল এশিয়া কাপের আগে থাইল্যান্ডে দু'টি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলো। দুই ম্যাচেই ঋতুপর্ণারা হেরেছিলেন। সেখানে সাগরিকারা আজ দারুণ শুরু করেছিলেন।
থাইল্যান্ড বাংলাদেশের চেয়ে সব দিক থেকেই এগিয়ে। এরপরও শুরু থেকে সমানে সমান লড়েছে। বাংলাদেশের বৃটিশ কোচ পিটার বাটলার তার হাই লাইন ডিফেন্স তত্ত্বে খেলা শুরু করেন। প্রথম দিকে থাইল্যান্ডের ফুটবলাররা গতিতে বাংলাদেশের ডিফেন্স ভেদ করেছে। গোলরক্ষক মিলি দুই বার পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসলেও বড় কোনো বিপদ হয়নি। আবার হাই লাইন ডিফেন্স করায় বাংলাদেশ থাইল্যান্ডকে অফ সাইড ফাদেও ফেলেছে একাধিকবার।
ম্যাচের সবচেয়ে আকর্ষনীয় মুহুর্ত ৩১ মিনিটে। বাংলাদেশের অর্ধ থেকে মহতী সাগরিকার উদ্দেশ্যে থ্রু পাস দেন। থাইল্যান্ডের তিন ডিফেন্ডারের মাঝ থেকে বল নিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকেন সাগরিকা। প্রায় ৪৫ গজ দূর থেকে বল টেনে নিয়ে বক্সে যান। থাইল্যান্ডের গোলরক্ষক এগিয়ে আসলেও সাগরিকা ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান। বাংলাদেশের ডাগ আউট ও স্টেডিয়ামে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা আনন্দে মাতেন।
বাংলাদেশ গোলের সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করেছে ম্যাচ জুড়েই। মিডফিল্ডার স্বপ্না রানী দূর পাল্লার শট নিয়েছেন কয়েকবার। যদিও কোচ প্রথমার্ধেই তাকে উঠিয়ে নেন।
বিভি/এআই



মন্তব্য করুন: