• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

কৃষক শক্তির মানববন্ধন: বিএলআরআই গবেষক ড. নাসরিনের প্রতিক্রিয়া

প্রকাশিত: ১৪:৪১, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
কৃষক শক্তির মানববন্ধন: বিএলআরআই গবেষক ড. নাসরিনের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশের দাবিতে জাতীয় কৃষক শক্তির করা মানববন্ধনে নিজের বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পরিচালক (গবেষণা)  ড. নাসরিন সুলতানা। গত রবিবার (১১ অক্টোবর) বাংলাভিশনে পাঠানো এক প্রতিবাদ বার্তায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ড. নাসরিন সুলতানা ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।

বাংলাভিশনে পাঠানো প্রতিবাদ বার্তায় ড. নাসরিন সুলতানা বলেন, “গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) সাভারের প্রধান ফটকের সামনে জাতীয় কৃষক শক্তির উদ্যোগে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে আপনার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উক্ত মানববন্ধনে বক্তাদের প্রদত্ত বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তমাধ্যে, উক্ত মানববন্ধনের ঘোষিত বিষয়বস্তুর পরিধির বাইরে গিয়ে সাবেক পরিচালক (গবেষণা) ড. নাসরিন সুলতানাকে ঘিরে ‘নিয়োগ প্রকল্প ও প্রশাসনিক অনিয়মের বিভিন্ন অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করেন তিনি। নাসরিন সুলতানার সাময়িক বরখাস্ত ও পরবর্তী পুনর্বহাল নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে এর প্রকৃত কারণ ও প্রক্রিয়া তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান"-মর্মে বক্তব্য প্রদান করা হয়। উক্ত বক্তব্যটি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখেই আপনার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত হয়।”

তিনি বলেন, “আমি শুরুতেই স্পষ্ট করছি যে, অনলাইন বাংলাভিশন সংস্করন পত্রিকার নিজস্ব অনুসন্ধানের ভিত্তিতে আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উত্থাপন করেনি। গণমাধ্যম হিসেবে কোনো জনসমাবেশে প্রদত্ত বক্তব্য সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করার অধিকারকে আমি সম্মান করি। তবে উল্লেখিত মানববন্ধনে আমার সম্পর্কে যে অভিযোগ ও বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে, তা অসত্য, বিভ্রান্তিকর এবং প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রকৃতপক্ষে, আমার বিরুদ্ধে ০১/০৭/২০২৫ খ্রিঃ তারিখে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত, পুনঃতদন্ত এবং পরবর্তীতে বিভাগীয় মামলার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত -এই তিনটি পৃথক তদন্ত কার্যক্রমে পৃথক পৃথক তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। অভিযোগ উত্থাপনের তারিখ থেকে শুরু করে চূড়ান্তভাবে সকল অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদানের অফিস আদেশ জারি হওয়া পর্যন্ত ১ (এক) বছর ১ (এক) দিন সময় অতিবাহিত হয়েছে। পরিশেষে, ০২/০৭/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)-এর মহাপরিচালকের অফিস আদেশের মাধ্যমে আমাকে উত্থাপিত সকল অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে (সংযুক্তি-২)। ফলে, উক্ত অভিযোগসমূহের বিষয়ে সম্পাদিত তদন্ত প্রক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বহাল নেই। দীর্ঘদিনের পেশাগত দায়িত্ব, গবেষণা কার্যক্রম ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে আমি বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) তথা দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে একজন নিষ্ঠাবান, সুনামধন্য ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিত।”

এ ধরণের বক্তব্য তার পেশাগত জীবনে গুরুতর ও সুদূরপ্রসারী ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে ড. নাসরিন সুলতানা প্রতিবাদ বার্তায় লিখেছেন, “দীর্ঘ সময়ব্যাপী এই তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে আমাকে যথেষ্ট মানসিক চাপ ও পেশাগত অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এর ফলে আমার পেশাগত কার্যক্রম, কর্মপরিবেশ এবং দীর্ঘদিনের পেশাগত জীবনে উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এছাড়া, উক্ত বক্তব্যের এভাবে ব্যাপক প্রচারের ফলে আমার সম্পর্কে পরিবার-পরিজন, সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ভুল ধারণা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি আমার ব্যক্তিগত সুনাম, পেশাগত মর্যাদা ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।”

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) ফটকে আয়োজিত মানববব্ধনে জাতীয় কৃষক শক্তির সদস্যসচিব কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম বিএলআরআইয়ের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘২০২৫ সালে বিএলআরআইয়ের গবেষণার জন্য রাখা ১৩টি মোরগ চুরির খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালেও একই শেড থেকে ৩৮টি মোরগ চুরির অভিযোগ সামনে এসেছিল। গবেষণার উপকরণই যদি চুরি হয়ে যায়, তাহলে সেই গবেষণার আউটপুট কী? জনগণের করের টাকায় পরিচালিত গবেষণা থেকে খামারি ও কৃষকরা উপকৃত না হলে এসব প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।’

বিএলআরআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ড. এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাবেক পরিচালক (গবেষণা) ড. নাসরিন সুলতানাকে ঘিরে নিয়োগ, প্রকল্প ও প্রশাসনিক অনিয়মের বিভিন্ন অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করেন তিনি। নাসরিন সুলতানার সাময়িক বরখাস্ত ও পরবর্তী পুনর্বহাল নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে এর প্রকৃত কারণ ও প্রক্রিয়া তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান গোলাম মর্তুজা সেলিম।

ড. নাসরিন সুলতানার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় কৃষক শক্তির সদস্যসচিব কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম বাংলাভিশনকে বলেন, "মানববন্ধনে আমি ড. নাসরিন সুলতানাকে সরাসরি অভিযুক্ত করে কোনো বক্তব্য দেইনি। আমার বক্তব্য ছিল মূলত বিভিন্ন জাতীয় পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত “প্রকল্পের নামে দুর্নীতি ও হরিলুট এবং নিয়োগ ও প্রশাসনিক অনিয়ম” সংক্রান্ত সংবাদের ভিত্তিতে। পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাবেক পরিচালক (গবেষণা) ড. নাসরিন সুলতানাকে ঘিরে কিছু অভিযোগের কথা উল্লেখ ছিল। সেই প্রেক্ষিতে আমি শুধুমাত্র ওই অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছিলাম। একইসাথে তাঁর সাময়িক বরখাস্ত ও পরবর্তী পুনর্বহালের প্রক্রিয়াটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছিলাম। এটিকে সরাসরি দোষারোপ হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়, এটি ছিল তদন্তের দাবি।

তিনি আরও বলেন, 'ইতিমধ্যে ড. নাসরিন সুলতানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহের বিষয়ে দীর্ঘ ১ বছর ১ দিনব্যাপী তদন্ত শেষে তাঁকে সকল অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। এই অব্যাহতির সংক্রান্ত কোনো সংবাদ ইতিপূর্বে আমার নজরে আসেনি বলেই আমি পূর্বের পত্রিকার তথ্যের ভিত্তিতে বক্তব্য রেখেছিলাম।"

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত