• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই গণহত্যাকারীদের মুক্তি চেয়ে দোসর সাংবাদিকদের মানবববন্ধন, জেজেইউর নিন্দা ও প্রতিবাদ

প্রকাশিত: ০০:৫৩, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ০০:৫৪, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
জুলাই গণহত্যাকারীদের মুক্তি চেয়ে দোসর সাংবাদিকদের মানবববন্ধন, জেজেইউর নিন্দা ও প্রতিবাদ

জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় আটক হওয়া সাংবাদিকদের মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার এবং চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহালের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আ.লীগপন্থীদের মানববন্ধনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি (জেজেইউ)।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘নিপীড়ণবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট’-এর ব্যানারের আড়ালে এই মানববন্ধনে জে. ই. মামুন, নঈম নিজাম ও শাকিল পারভেজসহ কুখ্যাত ফ্যাসিবাদী সাংবাদিকদের   বিভিন্ন ছবি প্রদর্শন করা হয়। মানববন্ধনে কারাদণ্ড আসামীদের মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার এবং ফ্যাসিবাদের অপরাধে চাকরিচ্যুত হওয়া  সাংবাদিকদের পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়, যা এক ধরণের অপরাধ। 

জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি মনে করে, জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ, শহীদদের রক্ত এবং আহতদের ত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত পরিবর্তনের পর হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই বিচারপ্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় অভিযুক্তদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এমন কর্মসূচি স্বচ্ছ আইনী কার্যক্রমে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা। এমনকি বিচারাকার্য বাধা প্রদানের মতো মারাত্মক অপরাধ । বিশেষ করে, যেসব অভিযোগের সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের প্রশ্ন জড়িত, সেসব ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা পেশাগত প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় গণমাধ্যমের ভূমিকা, সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদ আড়াল করার অভিযোগ এবং ক্ষমতাসীনদের স্বার্থে সাংবাদিকতার অপব্যবহারের প্রশ্নগুলো জনপরিসরে আলোচনার দাবি রাখে। এসব বিষয়ে কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে। একইভাবে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু বিচার শেষ হওয়ার আগেই মামলা প্রত্যাহার বা নিঃশর্ত মুক্তির দাবি তুলে বিচারপ্রক্রিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তা গভীর উদ্বেগের বিষয়।

জেজেইউ প্রশ্ন রাখতে চায়—জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার যখন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়, তখন তাঁদের বিচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতি সংহতি জানানো কতটা জরুরি? সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার দাবির পাশাপাশি জুলাই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার দাবিও কি সমান গুরুত্ব পাওয়ার কথা নয়? পেশাগত সংহতির অর্থ কি অভিযোগের জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়া, নাকি সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানো?

আমরা মনে করি, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা হলেই তা হয়রানিমূলক—এমন সিদ্ধান্ত যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি সাংবাদিক পরিচয়ের কারণে কোনো অভিযোগকে উপেক্ষা করাও গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি মামলার সত্যতা, প্রমাণ ও আইনি ভিত্তি যাচাই করতে হবে। যথাযথ তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করতে হবে; আর মিথ্যা, হয়রানিমূলক বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনি প্রতিকার দিতে হবে।

জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি আরও মনে করে, সাংবাদিক সমাজের দায়িত্ব কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি অন্ধ আনুগত্য প্রদর্শন করা নয়। সাংবাদিকতার মূল শক্তি হচ্ছে সত্য প্রকাশ, ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং নিপীড়িত মানুষের পক্ষে দাঁড়ানো। অতএব, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও শহীদ পরিবারের ন্যায়বিচারের প্রশ্নে নীরবতা কিংবা নির্বাচিত অবস্থান সাংবাদিকতার নৈতিক ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

জেজেইউর দাবি

১.শুধুমাত্র জুলাই অভ্যুত্থান নয়, গণমাধ্যমকে যারা বিগত সময় ফ্যাসিবাদের অন্যতম সহায়ক শক্তিতে রূপান্তর করেছিল তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনী ব্যবস্থা নিতে হবে। 

২.অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করতে হবে; একই সঙ্গে তাঁদের ন্যায্য আইনি অধিকার ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

৩.বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কোনো রাজনৈতিক, পেশাগত বা সাংগঠনিক চাপ প্রয়োগ করা হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

৪.সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও পেশাগত অধিকার রক্ষার নামে অপরাধের অভিযোগকে আড়াল করা কিংবা জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।

৫.জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।


পরিশেষে, জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি দ্ব্যর্থহীনভাবে জানাতে চায়—জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগকে বিস্মৃত হতে দেওয়া হবে না। বিচারপ্রক্রিয়া যেন কোনোভাবেই প্রভাবিত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সোচ্চার থাকব। একই সঙ্গে প্রতিহিংসা নয়, প্রমাণভিত্তিক বিচার এবং ব্যক্তিবিশেষের প্রতি আনুগত্য নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পক্ষে আমাদের অবস্থান অবিচল থাকবে।

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে কোনো আপস নয়। সাংবাদিকতার নামে দায়মুক্তি নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচারও নয়—সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

বিভি/কেএস/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত