• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

ঘরে বসেই জানুন বাবা-দাদার নামে কোথায় কতটুকু জমি

প্রকাশিত: ২২:১৭, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ঘরে বসেই জানুন বাবা-দাদার নামে কোথায় কতটুকু জমি

বাবা-দাদার নামে কোথায় কতটুকু জমি রয়েছে, তা জানতে এখন আর ভূমি অফিসে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। স্মার্টফোন ব্যবহার করেই ঘরে বসে অনলাইনে জমির খতিয়ান, দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণ সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য জানা সম্ভব। এমনকি প্রয়োজন হলে খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপির জন্যও অনলাইনে আবেদন করা যায়।

ভূমিসেবা ডিজিটাল হওয়ার ফলে এই প্রক্রিয়া এখন অনেক সহজ হয়েছে। সরকারি ই-পর্চা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করেই জমির রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যায়।

অনলাইনে যেভাবে জমির তথ্য খুঁজবেন
প্রথমে স্মার্টফোনের ব্রাউজার থেকে ‘ই-পর্চা’ লিখে অনুসন্ধান করতে হবে। এরপর সরকারি ই-পর্চা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে মেন্যু থেকে ‘খতিয়ান’ অপশন নির্বাচন করতে হবে।

পরবর্তী ধাপে জমির বিভাগ, জেলা, খতিয়ানের ধরন, উপজেলা ও মৌজা নির্বাচন করতে হবে। জমির রেকর্ড অনুযায়ী বিএস, সিএস, আরএস অথবা এসএ খতিয়ানের ধরন বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

এরপর খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর কিংবা জমির মালিকের নাম দিয়ে অনুসন্ধান করা যাবে। প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর ক্যাপচা পূরণ করে ‘অনুসন্ধান করুন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।

অনুসন্ধান সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডে জমির মালিকের নাম, দাগ ও খতিয়ান নম্বর এবং জমির পরিমাণ সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য দেখা যাবে।

খতিয়ানের কপি পাবেন যেভাবে
অনলাইনে জমির রেকর্ড খুঁজে পাওয়ার পর খতিয়ানের কপি প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডের পাশে থাকা ‘আবেদন করুন’ অপশনে যেতে হবে।

সেখানে আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, ই-মেইল, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। আবেদন ফরম পূরণ করে তথ্য যাচাইয়ের পর পরবর্তী ধাপে যেতে হবে। নির্ধারিত ফি থাকলে ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে তা পরিশোধ করা যাবে।

শুধু নাম দিয়ে কি সব জমি খুঁজে পাওয়া যাবে?
এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। শুধু বাবা বা দাদার নাম লিখে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের নামে থাকা সব জমির পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ জমির রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে নির্দিষ্ট বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা, খতিয়ান ও দাগ নম্বরের ভিত্তিতে।

তাই পরিবারের পুরোনো জমির অবস্থান সম্পর্কে ধারণা থাকলে অনুসন্ধান অনেক সহজ হবে। বিশেষ করে কোন এলাকায় জমি ছিল, সংশ্লিষ্ট মৌজার নাম কিংবা পুরোনো খতিয়ান ও দাগ নম্বর জানা থাকলে দ্রুত তথ্য পাওয়া সম্ভব।

জমির মালিকানা যাচাইয়ে সতর্কতা
অনলাইনে পাওয়া তথ্যকে জমির মালিকানা যাচাইয়ের প্রাথমিক মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার বণ্টন কিংবা মালিকানা নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে শুধু অনলাইন খতিয়ানের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।

এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খতিয়ান, মূল দলিল, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে পুরোনো জমির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ের রেকর্ডে মালিকানা ও জমির পরিমাণে পরিবর্তন থাকতে পারে।

অর্থাৎ, ঘরে বসেই বাবা-দাদার জমির প্রাথমিক তথ্য খুঁজে দেখা সম্ভব। তবে জমির প্রকৃত ও হালনাগাদ মালিকানা নিশ্চিত করতে সব বৈধ নথি মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত