• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

প্রশাসনই একটি সরকারের সার্বিক সাফল্যের অন্যতম শর্ত: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২০:১৮, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
প্রশাসনই একটি সরকারের সার্বিক সাফল্যের অন্যতম শর্ত: প্রধানমন্ত্রী

সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক দলের প্রতি ব্যক্তিগত সমর্থন থাকলেও তার প্রতিফলন সরকারি অফিসে নয়, বরং ব্যালট বাক্সে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সরকারি সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে নবীন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মতে, দক্ষতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রশাসনই একটি সরকারের সার্বিক সাফল্যের অন্যতম শর্ত।

রবিবার (৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিপিএটিসি) ৮১তম ফাউন্ডেশন ট্রেনিং কোর্স বা বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে তারা জীবনের নতুন একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। একাডেমিক জ্ঞান অর্জনের পর ব্যবহারিক জীবনে সেই জ্ঞান প্রয়োগের কলাকৌশল তাঁরা শিখেছেন। এখন সরকারি প্রশাসনে যে দায়িত্বই তাদের ওপর অর্পিত হোক না কেন, অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। কর্মজীবন শুরুর এই মুহূর্তকে তিনি কর্মকর্তাদের জীবনের অন্যতম আনন্দময় সময় হিসেবে উল্লেখ করে তাদের অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রশাসন যত বেশি দক্ষ হবে, সরকারের কার্যক্রমও তত বেশি সফল হবে। তাই সরকারের সার্বিক সাফল্যের জন্য দক্ষতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রশাসন জরুরি। এসব বৈশিষ্ট্য শুধু একজন কর্মকর্তাকেই সমৃদ্ধ করে না, রাষ্ট্র ও সরকারকেও সমৃদ্ধ করে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে ২৬টি ক্যাডার রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে কেউ প্রশাসন, কেউ পররাষ্ট্র, কেউ কৃষি, কেউ কর, শিক্ষা কিংবা তথ্য ক্যাডারে যোগ দেবেন। কাজের ধরন ও কর্মস্থল আলাদা হলেও তাদের সবার প্রথম ও প্রধান পরিচয় তারা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা। তাদের মূল দায়িত্ব জনগণের সেবা করা।

সরকারপ্রধান হিসেবে নবীন কর্মকর্তাদের কাছে নিজের প্রত্যাশা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো বয়সের নাগরিক সহযোগিতার জন্য সরকারি দপ্তরে গিয়ে যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, তা কর্মকর্তাদের নিশ্চিত করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি ‘গোল্ডেন রুল’ বা নীতিবাক্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘Treat others how you want to be treated’। অর্থাৎ, অন্যের কাছ থেকে নিজের জন্য যে ধরনের আচরণ প্রত্যাশা করবেন, অন্যের সঙ্গেও তেমন আচরণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিধিবদ্ধ নিয়মের মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে কোনো নাগরিকের সঙ্গে কাজ করার সময় কর্মকর্তার আচরণ কতটা মানবিক ও আন্তরিক ছিল, আধুনিক রাষ্ট্র ও প্রশাসনে সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো নাগরিক আবেদনপত্র নিয়ে এলে তাতে ভুল থাকলে তাকে সংশোধন করে আনতে বলা অন্যায় নয়। তবে কোথায় ভুল হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে দেখিয়ে দেওয়া এবং কোথায় গিয়ে তা সংশোধন করতে হবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া মানবিকতা ও আন্তরিকতার প্রকাশ। দেশের মানুষ সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে শুধু আদেশ-নির্দেশ নয়, মানবিক আচরণও প্রত্যাশা করে।

প্রশাসনে পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পদোন্নতির জন্য পেশাগত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে আপস না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনপ্রশাসনে হাজার হাজার পদ-পদবি রয়েছে। প্রতিটি পদই রাষ্ট্র ও সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ।

যেকোনো সময় দেশের যেকোনো স্থানে জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাকে চূড়ান্ত পেশাদারিত্বের পরিচায়ক বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদও কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। তাই পছন্দের পদ বা পদোন্নতির জন্য পেশাগত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে আপস করা উচিত নয়।

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক দলের প্রতি ব্যক্তিগত সমর্থন থাকা দোষের নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে সেই সমর্থনের প্রতিফলন সরকারি অফিসে নয়, ব্যালট বাক্সে হওয়া উচিত বলে জানান তিনি।

নবীন কর্মকর্তাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, বর্তমান সরকারও রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে কি না—এমন প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে এবং তা সরকারি প্রশাসনের মাধ্যমেই করছে। তবে এর পার্থক্য হলো, এসব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই জনগণ ভোট দিয়ে সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের সামনে নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরা হয়েছিল। জনগণ সেই ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে। ফলে নির্বাচনী ইশতেহার এখন জনগণের ইশতেহার ও দলিল। তা বাস্তবায়ন করা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ব পালনের প্রশাসনিক কাজ নবীন কর্মকর্তারা আন্তরিকতার সঙ্গে করবেন- এটাই সরকারের প্রত্যাশা।

প্রশাসনে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে সরকারি সেবা আরও সহজ ও নাগরিকবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক উদ্যোগের চেয়েও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক মানসিকতা বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ বিষয়ে নবীন কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করেন তিনি।

প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিবেশ-প্রতিবেশের সুরক্ষা এবং পরিচ্ছন্নতার দিকে আরও বেশি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঘরবাড়ি, অফিস-আদালতসহ চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: