• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

গোবর দিয়ে বায়োগ্যাস তৈরি, সানজিদুলের মাসিক আয় অর্ধলক্ষ টাকা

ইলিয়াছ মাহমুদ, শরীয়তপুর

প্রকাশিত: ১৬:১১, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
গোবর দিয়ে বায়োগ্যাস তৈরি, সানজিদুলের মাসিক আয় অর্ধলক্ষ টাকা

চুলায় জ্বলছে আগুন, হাঁড়িতে চলছে রান্না। তবে এই আগুনের উৎস কোনো গ্যাস সিলিন্ডার নয়, গরুর খামারে জমা হওয়া গোবর থেকে তৈরি হচ্ছে বায়োগ্যাস। আর সেই গ্যাস পাইপলাইনে পৌঁছে যাচ্ছে একের পর এক রান্নাঘরে। 

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা সানজিদুল ইসলামের হাত ধরে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। উপজেলার ডিএমখালী ইউনিয়নে গড়ে তোলা এই বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস যাচ্ছে প্রায় ৩০টি পরিবারের রান্নাঘরে। প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার কেজি গোবর ব্যবহার করে উৎপাদন করা হচ্ছে রান্নার জ্বালানি।

ব্যতিক্রমি এই উদ্যোগের উদ্যোক্তা সানজিদুল ইসলাম। ২০১৮ সালে এসএসসি পাসের পর ড্রাইভিং শিখতে বগুড়ায় গিয়ে প্রথম দেখেন বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। সেখানে গরুর গোবর থেকে রান্নার গ্যাস উৎপাদনের বিষয়টি দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে পরবর্তীতে মামা ইয়াছিন মিয়ার গরুর খামারের পাশে প্রায় ১১ লাখ টাকা বিনিয়োগে গড়ে তোলেন বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। 

শুধু রান্নার জ্বালানি নয়, বায়োগ্যাস উৎপাদনের পর অবশিষ্ট উপাদান থেকে তৈরি হচ্ছে জৈব সার। উদ্যোক্তার দাবি, গ্যাস ও সার বিক্রি থেকে মাসে আয় প্রায় ৭০ হাজার টাকা। 

বোতলজাত এলপিজি গ্যাসের বাড়তি দাম ও সরবরাহের অনিশ্চয়তার মধ্যে এই উদ্যোগে স্বস্তি পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, সিলিন্ডার কেনার ঝামেলা ছাড়াই বাড়িতে গ্যাস পাওয়ায় দৈনন্দিন রান্নার কাজ হয়েছে সহজ।

যে গোবরকে একসময় বর্জ্য হিসেবে দেখা হতো, সঠিক পরিকল্পনায় সেই গোবরই এখন জ্বালানি হয়ে জ্বলছে পরিবারের রান্নাঘরে। জ্বালানির চাহিদা ও সংকটের এই সময়ে সানজিদুলের উদ্যোগ দেখাচ্ছে গ্রামাঞ্চলে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও উদ্যোগ বাড়লে এমন পরিবেশবান্ধব প্রকল্প ছড়িয়ে পড়তে পারে দেশের আরও অনেক এলাকায়।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: