• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

আগাম চাষের ফুলকপিতে পচন, কৃষকের মাথায় হাত

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:৪৫, ৯ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
আগাম চাষের ফুলকপিতে পচন, কৃষকের মাথায় হাত

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে আগাম শীতকালীন সবজি ফুলকপিতে পচন দেখা দিয়েছে। বিক্রির উপযোগী হওয়ার আগেই ক্ষেতের ফুলকপি পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। স্থানীয় বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ কিনে প্রয়োগ করেও অনেক কৃষক পচন ঠেকাতে পারছেন না। এতে আগাম ফুলকপি চাষে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াকান্দিতে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করা হয়েছে।

উপজেলার জামালপুর ও বহরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ফুলকপির চাষ হয়েছে। কোথাও কৃষকেরা পরিচর্যায় ব্যস্ত, আবার কোথাও আক্রান্ত গাছ ও ফুলকপি তুলে ফেলছেন। অনেক ক্ষেতেই ফুলকপির ফুলে বাদামি রঙের গোলাকার দাগ দেখা দিয়েছে। পরে ধীরে ধীরে সেই দাগ থেকে পচন ছড়িয়ে পুরো ফুলকপি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত হচ্ছে গাছের পাতাও।

জামালপুর ইউনিয়নের গুপ্তলক্ষ্মণদিয়া গ্রামের কৃষক রেজোয়ান মোল্লা বলেন, ২০ শতাংশ জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ করেছিলেন তিনি। ফুলকপি বিক্রির উপযোগী হওয়ার সময়েই পচন দেখা দেয়। এরই মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয় বাজার থেকে ওষুধ কিনে স্প্রে করেও কোনো সুফল পাননি তিনি।

কৃষক ব্রজেন বিশ্বাস বলেন, বেশি দামে সার ও কীটনাশক কিনে আগাম ফুলকপি চাষ করেছিলেন। চারা রোপণের ২০ থেকে ৩০ দিনের মধ্যেই পাতায় পচন শুরু হয়। পরে তা ফুলকপিতে ছড়িয়ে পড়ে। পচন দেখা দেওয়ার দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই ফুলকপি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

আরেক চাষি নদিয়ার চাঁদ বিশ্বাস বলেন, প্রায় ১৫ দিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফুলকপিতে এ সমস্যা দেখা যাচ্ছে। বাজার থেকে ওষুধ কিনে প্রয়োগ করেও কোনো উপকার পাচ্ছেন না তারা। তার অভিযোগ, কৃষি অফিস থেকে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। নিম্নমানের বা ভেজাল কীটনাশকের কারণেও কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। আগাম শীতকালীন সবজি চাষের শুরু থেকেই কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকি করলে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হতো বলে মনে করেন এই কৃষক।

এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন কুমার ঘোষ বলেন, আগাম জাতের ফুলকপিতে পচন দেখা দেওয়ার বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। পচন রোধে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত