• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

কিউবান সঙ্গীত আর কবিতা

আজফার হোসেন

প্রকাশিত: ২০:০২, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

আপডেট: ১৪:৩৪, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

ফন্ট সাইজ
কিউবান সঙ্গীত আর কবিতা

আজফার হোসেন কিউবায়

কিউবার বিপ্লবী রাজনীতি, ইতিহাস ও সাহিত্যে আমার বিশেষ আগ্রহ সেই অল্প বয়সে জন্মালেও গত এক দশকের বেশি সময় ধরে তা যে জ্যামিতিক প্রগমনেই বৃদ্ধি পেয়েছে সেটা অবশ্যই বলা যাবে । এই সময়ে বিশেষ ভাবে বিশ্বসংগীত শুনতে এবং অধ্যয়ন করতে গিয়েই আফ্রো-কিউবান সঙ্গীতকে--বিশেষ করে কিউবান জ্যাজকে--নিজের মত করে আবিষ্কার করার সুযোগ পেয়েছি, যার জন্য অবশ্য আমার বন্ধু এবং অসাধারণ আফ্রিকান-আমেরিকান জ্যাজশিল্পী কেলভিন মনরো'র কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কেলভিন আমাকে কিউবান সঙ্গীতশিল্পী আর্তুরো সান্দোভালের সঙ্গীত শুনিয়ে রীতিমত পাগল করে দিয়েছিল এক সময়, যেমন সেই একই জিনিস করেছিল কিউবার জ্যাজ নিয়ে লেখা কিছু অসাধারণ কবিতাও। সেই কবিতাগুলো লিখেছেন কিউবার কালো বিপ্লবী কবি এবং আমার অত্যন্ত প্রিয় কবি নিকোলাস গিয়েন, যাঁর রক্ত দিয়ে লেখা কবিতার সঙ্গে তীব্র অস্থিরতা আর উত্তেজনায় আমার রাতের পর রাত কেটেছে।

গিয়েনের কিউবা প্রসঙ্গে আরেক অসাধারণ কবির কথা মনে পড়ছে। তবে তিনি কিউবার কবি নন। কিন্তু কিউবা নিয়ে লিখেছেন তিনি অসাধারণ দক্ষতা সহকারে। তিনি নিকারাগুয়ার বিপ্লবী কবি। তিনি একাধারে মার্কসবাদী এবং যাজকও। নাম তার এর্নেস্তো কার্দেনাল। কিউবার ওপর তিনি এক অনবদ্য বই লিখেছিলেন সেই সত্তরের দশকে, ইংরেজি অনুবাদে যার শিরোনাম 'ইন কিউবা'। এই বই একই সঙ্গে কিউবা-ভ্রমনের, বিপ্লবের, সৃষ্টিশীলতার, ইতিহাসের, প্রতিবেদনের, সমাজতত্ত্বের, কবিতার, এমনকি জনতার দীর্ঘশ্বাসেরও। সত্যি কথা বলতে কি, কিউবা নিয়ে এত ভাল বই আর পড়িনি। আর এই বই পড়েই কিউবাকে, কাস্ত্রোকে, চে গুয়েভারাকে খানিকটা অন্যভাবে দেখতে শিখেছিলাম।

তো, সেই কাস্ত্রোর আর চে গুয়েভারার আর গিয়েনের কিউবায় গিয়েছিলাম বছর তিনেক আগে। আমাদের সংগঠন গ্লোবাল সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড্ স্টাডিজ আর হাভানা বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে এক সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করেছিলো। আর এই সিম্পোজিয়ামের বিষয় ছিল "কিউবা ও বিপ্লব।" সেখানে আমাকে বক্তৃতা করতে হয়েছিলো। শুধু তাই নয়, কিউবার বেশ কিছু লেখক ও কবির সঙ্গে এবং সাধারণ মানুষসহ শিশুদের সঙ্গেও দারুণ সময় কেটেছিলো।

লেখক : তাত্ত্বিক, সমালোচক ও অ্যাক্টিভিস্ট

মন্তব্য করুন: