কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সেই ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম
লুকোচুরি নিয়ে ক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত
স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পর মানবিক বিবেচনায় যশোর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দাম।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) কারাগারে জামিনের আদেশ আসার পর দুপুর দুটোর দিকে তিনি মুক্তি পান।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সিনিয়র জেল সুপার (অ. দা.) আসিফ উদ্দীন।
তবে, ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের মুক্তি নিয়ে লুকোচুরি লক্ষ্য করা গেছে।
এর আগে, গত সোমবার হাইকোর্টের একটি ডিভিশন ফৌজদারি বেঞ্চ যশোর কারাগারে বন্দী সাদ্দামের ৬ মাসের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
সাদ্দামের স্বজন ও কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। বাগেরহাট কারাগার থেকে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করে কারা কতৃপক্ষ। গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে বাগেরহাটের বেখেডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের নিজ বাড়ি থেকে তার স্ত্রী স্বর্ণালী ও নয় মাস বয়সী শিশুপুত্র নাজিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, বিষণ্ণতা থেকে সন্তানকে হত্যার পর স্বর্ণালী আত্মহত্যা করেন। গত ২৪ জানুয়ারি প্যারোল না পাওয়ায় সাদ্দামের মৃত স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে নিয়ে যাওয়া হয়। কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে সন্ধ্যায় জেলগেটের ভেতরে মাত্র ৫ মিনিটের জন্য সাদ্দামকে তার স্ত্রী কানিজ সুরভানা স্বর্ণালী ও শিশু সন্তান নাজিমের মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দিয়ে জেলগেটে মরদেহ দেখানোর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
এদিকে সাদ্দামের মুক্তি নিয়ে বুধবার যশোর কারা কর্তৃপক্ষের লুকোচুরি লক্ষ্য করা গেছে। দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কারাগারের প্রধান ফটকে যশোরের গণমাধ্যম কর্মীদের অপেক্ষা করেন। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যম কর্মীদের মুক্তির বিষয়ে পরিস্কার কোনো তথ্য না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন গণমাধ্যম কর্মীরা। কারা ফটকের বাইরে থেকে তারা বারবার কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলদের সাথে যোগাযোগ করলেও কোনো সাড়া দেওয়া হয়নি। সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার ও এক্সি কিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কারাগারের অতিরিক্ত দায়িত্বরত কর্মকর্তা আসিফ উদ্দীন জানান, দুপুরে সাদ্দামের মুক্তি হয়ে গেছে। সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। লুকোচুরি বিষয়ে তিনি জেলরের সাথে কথা বলতে বলেন।
জেলার আবিদ আহম্মেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সাদ্দামের ভাই শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। সন্ধ্যায় বাড়ি পৌঁচ্ছোনের পর সাদ্দাম তার স্ত্রী ও সন্তানের কবর জিয়ারত করেছেন। সেখানে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। পরিবারের লোকজন, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে স্বান্তনা দেন, সমবেদনা জানান। এ সময় শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বিভি/এআই



মন্তব্য করুন: