• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র  ৫৭৪টি

প্রকাশিত: ১৪:৪৬, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র  ৫৭৪টি

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ছয়টি আসনের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলার মোট ৮০৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৭৪টি। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ৯২টি। সাধারণ কেন্দ্রের সংখ্যা ২৩১টি।

তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এবং জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ঝুঁকির মাত্রা যাই হোক না কেন, সব ভোটকেন্দ্রেই পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি জেলার সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে।

আসনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের ৮০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৪টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১০টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা এবং বিজয়নগর উপজেলার দুই ইউনিয়ন) আসনে মোট ১৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৭টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর উপজেলা) আসনের ১৯২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১১টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২৭টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা ও আখাউড়া উপজেলা) আসনের ১৩০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৪টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের ১৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯৯টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের ৯৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৪টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১১টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ গণমাধ্যমকে বলেন, ঝুঁকি বলতে নির্দিষ্ট কোনো হুমকি নয়, বরং বিভিন্ন ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে কেন্দ্রগুলোকে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। কোথাও যোগাযোগব্যবস্থা, কোথাও অতীত অভিজ্ঞতা বা পেশিশক্তি প্রদর্শনের সম্ভাবনার বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রকে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার—এই পাঁচটি বাহিনী সমন্বিতভাবে পেট্রোলিং করবে। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া সব ৮০৫টি ভোটকেন্দ্রেই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এবং প্রতিটি উপজেলায় থাকবে একটি করে কন্ট্রোল রুম।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমীন আক্তার গণমাধ্যমকে জাহান বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দুইজন পুলিশ সদস্য এবং ৮ থেকে ১০ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর বাইরে পুলিশের মোবাইল ও স্ট্রাইকিং টিমের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরা মাঠে থাকবেন। পুরো জেলাজুড়ে জালের মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

এদিকে জেলার ৮০৫টি ভোটকেন্দ্রে প্রায় ১০ হাজার আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। গত বুধবার শহরের নিয়াজ মুহাম্মদ স্টেডিয়ামে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিয়ে প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনুর রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা রেঞ্জের পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান, ১৫ আনসার ব্যাটালিয়নের উপ-পরিচালক মো. জাহিদুল ইসলাম এবং জেলা কমান্ড্যান্ট মো. মনিরুজ্জামান।

মন্তব্য করুন: