• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফ্যানের সিলিংয়ে ঝুলছিলো বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছাত্রীর মরদেহ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৪৪, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ফ্যানের সিলিংয়ে ঝুলছিলো বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছাত্রীর মরদেহ

সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় এক বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

নিহত ছাত্রীর বাবা প্রাণনাথ দাসের বরাতে সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা সাংবাদিকদের জানান, রবিবার রাতে পরিবারের চার সদস্য—স্বামী, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে—একসঙ্গে রাতের খাবার শেষে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে প্রাণনাথ দাস লক্ষ্য করেন, তার মেয়ের কক্ষটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ, যা তার মেয়ের স্বাভাবিক অভ্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এতে সন্দেহ হলে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘরে ঢুকে তারা দেখতে পান, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাদের একমাত্র মেয়ে ঝুলছে। পরে তাকে নামিয়ে দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

এসআই সোহেল রানা আরও জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, নিহত ছাত্রীর নিকটাত্মীয় সুমন মুখার্জী জানান, মেয়েটি অত্যন্ত মেধাবী ছিল। সে সম্প্রতি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাতালিকায় স্থান করে নিয়েছিল। এমন একটি সম্ভাবনাময় জীবনের আকস্মিক অবসান পরিবারসহ আমাদের সবাইকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে।

মানবাধিকার ও নারী অধিকার কর্মীরাও ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জোছনা দত্ত বলেন, এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনায় অনেক সময় দায় এড়াতে দ্রুত আত্মহত্যা হিসেবে আখ্যা দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। তাই প্রতিটি মৃত্যুর ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা না হলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: