সেনাবাহিনীর প্রেস ব্রিফ্রিং
‘মুন্সীগঞ্জে নিহত জসিমের সাথে প্রতিপক্ষের পূর্ববিরোধ ছিল’
শুক্রবার মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের চরআব্দুল্লাহ গ্ৰামে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জসিম নায়েব নিহত ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। হামলাকারীরা এলাকায় ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়ে আতংক সৃষ্টি করে মানুষ দূরে চলে গেলে নির্মমভাবে জসিমকে হত্যা করে কৃষি জমিতে।
নিহত জসিম নায়েব স্ত্রী হাবিবা আক্তার রাত্রি তার ৪ বছরের ছেলে হাবুবুল্লাহ ও ১৮ দিনের ছোট ছেলে আবু হুরায়রাকে নিয়ে নির্বাক। স্বজনদের আহাজারি ছাড়া পরিবারের আর করার নেই কিছুই।
এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে লাশ নিয়ে মুন্সীগঞ্জ শহরে আসলে বিক্ষুব্ধরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় মুন্সীগঞ্জ পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন লাশ দেখতে আসেন।
এ সময় তিনি বলেন, আমরা জনগণের ন্যায্য ভোটার অধিকার ফিরিয়ে আনতে ১৭ বছর আন্দোলন করেছি। আজকে নির্বাচনের পর ফুটবল প্রতীকের সমর্থকদের উপর যে নির্যাতন চালাচ্ছে এটা কখনো আশা করিনি। প্রশাসন আজ এই হত্যা মামলাকে অন্যখাতে নেওয়ার পায়তারা করছে, ফুটবল প্রতীকের সমর্থকরা বিভিন্ন এলাকায় মার খাচ্ছে, বাড়ি ছাড়া হচ্ছে, হামলার শিকার হচ্ছে কিন্তু প্রশাসন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। বিক্ষোভ কালে এক পর্যায়ে পুলিশ এসে হত্যা মামলা নেয়ায় আশ্বস্ত করেন।
স্থানীয় মাফিক নায়েবের ছেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থক ছিলেন। হামলাকারী পক্ষ মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী কামরুজ্জামান রতন পক্ষের সমর্থক ছিলেন। নির্বাচনের পর দিন হামলাকারীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং জসিমের ২ ভাই, তার পিতা এবং চাচাদের ব্যাপক মারধর করে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন আছে, আসামিরা পলাতক, পুলিশ আর সেনাবাহিনী বলছে দ্রুত সময়ে আসামিদের তারা আটক করবে বর্তমানে হামলাকারীরা গা ঢাকা দিয়েছে এবং তাদের বাড়ীঘরে তালা ঝুলছে।
মোঃ রহমত উল্লাহ বলেন, নির্বাচনের দিন আমি ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্ট ছিলাম আর যাকে হত্যা করা হয়েছে সে ছিলো ফুটবলের এজেন্ট। আমাদের এখানে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। তিনি আরোও বলেন, ফুটবল প্রতীকে সমর্থন করায় হঠাৎ হামলা করে জসিমকে হত্যা করাটা ঠিক হয়নি। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিৎ।
গ্ৰামের এক মুরুব্বি বলেন, আমরা ভাবছিলাম শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে কারও সাথে কোন মারামারি কিংবা কথাকাটাকাটি হয়নি। ব্যক্তিগত বিরোধে ফুটবল প্রতীকের সাপোর্ট করায় নিরীহ ছেলেটাকে হত্যা করা হয়েছে এটা আমরা মেনে নিতে পারছি না। নিজেদের মধ্যে বিরোধ আছে বলেই দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে কাউকে হত্যা করতে হবে? তিনি আরোও বলেন, এই এলাকায় কখনও মারামারি হয়নি, কিন্তু এবার এই এলাকায় বিপুল পরিমাণ ককটেল ফুটিয়েছে যার কারণে মানুষ বেশ আতঙ্কিত। ছেলেটা নিরীহ মানুষ তাকে যারা হত্যা করেছে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হউক। এটাই এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষের দাবি।
এদিকে মুন্সীগঞ্জের চরাঞ্চলে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় প্রতিপক্ষের হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রেস ব্রিফিং করেছে সেনাবাহিনী। শনিবার দুপুরে ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৯বীরের সিও লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আকিব জাবের জানায়, নিহত জসিম নায়েবের সাথে প্রতিপক্ষ ডাক্তার নাসির গ্রুপের পূর্ব বিরোধ ছিলো। পারিবারিক বিরোধের জেরে নির্বাচনের পরে সে হামলার ঘটনা ঘটে।
তিনি আরো জানান, নিহত জসিমের সাথে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে পরবর্তীতে নির্বাচনের কথাকটাকাটির জেরে জসিমের বাড়িতে নাছির পক্ষ অতর্কিত হামলা করে। এতে আহত হওয়ার পর হাসপাতালে জসিমের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার চেষ্টা চলছে। এদিকে নিহত জসিমের চর আব্দুল্লাহ গ্রামের বাড়ীতে চলছে শোকের মাতম। তার আপন বড় ভাইয়ের অবস্থাও সংকটাপন্ন তিনি আইসিউতে ভর্তি আছেন। নিহতের মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে গ্রামের বাড়ীতে আনা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
বিভি/এসএইচএল/এজেড



মন্তব্য করুন: