• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

হাঁস চুরির অপবাদে নাকে খত দেয়ানোয় অপমানে আত্মহত্যা করলো যুবক

প্রকাশিত: ১৩:২৭, ৯ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
হাঁস চুরির অপবাদে নাকে খত দেয়ানোয় অপমানে আত্মহত্যা করলো যুবক

ছবি: মাছুম (সংগৃহীত)

ফরিদগঞ্জে হাঁস চুরির ঘটনা কেন্দ্র করে তুলকালামকাণ্ড ঘটে গেছে। চুরির ঘটনার বিচার হিসেবে নাকে খত দেওয়া ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করার পর অভিযুক্ত মাসুম (১৯) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। 

রবিবার (৮ মার্চ) উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের মিজিবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে রাতেই পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে।

জানা গেছে, মিজিবাড়ির আলাউদ্দিন মিজির বড় ছেলে মাসুম (১৯) ও তার সঙ্গী পার্শ্ববর্তী পাটওয়ারীর বাড়ির নয়ন পাটওয়ারীর ২টি চীনা হাঁস ও ১টি দেশি হাঁস শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে চুরি করে। ওই রাতেই চুরি করা হাঁস তিনটি নয়ন পাটওয়ারীর চাচাতো বোন রাবেয়ার কাছে এক হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করে। 

এ ঘটনা শনিবার (৭ মার্চ) সকালে প্রকাশ হওয়ার পর অভিযুক্ত মাসুমের ঘরে এলাকার যুবকরা কয়েক দফা যায়। একপর্যায়ে ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান রবিবার সকালে স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে সালিশ বৈঠক করেন। 

চুরির ঘটনায় মাসুমকে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে ঘটনাস্থলে নাকে খত দেওয়া এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ ঘটনার পর বিকালে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে মাসুম নিজের বসতঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। 

এদিকে স্থানীয় লোকজন জানান, মাসুমসহ বেশ কয়েকজন এলাকায় ছোটখাটো চুরির সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া এলাকায় একটি মাদক সিন্ডিকেট রয়েছে। আত্মহত্যার ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে গেলে দেখা যায় মাসুমের নিথর দেহ নিয়ে স্বজনদের আহাজারি। তারা চুরির ঘটনা কেন্দ্র করে এ করুণ মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না। তাদের দাবি, হাঁস চুরির ঘটনা কেন্দ্র করে দফায় দফায় ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও মাসুমকে মারধর করা হয়। সর্বশেষ রবিবার বিচারের সময় মাসুম ও তার মাকে অপমানজনক কথা বলা হয়। মাসুমকে সবার সামনে নাকে খত দিতে বাধ্য করা হয়। তাই সে অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে।

মাসুমের মা মৌসুমী গণমাধ্যমকে জানান, তার বড় ছেলে মাসুম তিনটি হাঁস চুরি করেছে। এ চুরির ঘটনা কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক দফা এলাকার ছেলেরা তার ছেলেকে শাসিয়ে যায় এবং মারধর করে। রবিবার সকালে স্থানীয় মিজান মেম্বারের নেতৃত্বে বিচার হয়। বিচারে তার ছেলেকে দোষী করে নাকে খত দেওয়া এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে। এ সময়ে আমাকে ও আমার ছেলেকে নানা কথায় অপমান করে তারা। বিচার শেষে বিকাল ৩টার দিকে আমি মাদ্রাসায় যাই। সেখানে যাওয়ার পর ৪টার দিকে সংবাদ পাই যে আমার ছেলে অপমান সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়েছে। এ ছাড়া চুরির ঘটনা কেন্দ্র করে আমার ঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।

মাসুমের খালা সুমি বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, আমার বোনের ছেলের মৃত্যুর ঘটনার বিচার চাই। তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে।

সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল গনি গণমাধ্যমকে জানান, আমি এ বাড়ির অভিভাবক। এলাকার চুরির ঘটনা কেন্দ্র করে বিচার হয়েছে। অথচ আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। বিচার যথাযথ হয়েছে কিনা তা আমি নিশ্চিত নই। তবে এ মৃত্যুটি মেনে নেওয়া যায় না।

পাটওয়ারীবাড়ির নয়ন পাটওয়ারী গণমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার রাতে তাদের ঘর থেকে তিনটি হাঁস চুরি হয়। পর দিন সকালে জানতে পারি আমার চাচাতো বোন রাবেয়ার কাছে মাসুম ও আল আমিন ১৪০০ টাকায় তিনটি হাঁস বিক্রি করেছে। এরপর আমরা তার বাড়িতে যাই। কিন্তু সে খারাপ আচারণ করে। পরবর্তীতে ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানকে জানালে তিনি বিচারের ব্যবস্থা করেন ।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, হাঁস চুরির ঘটনা জেনে আমি এলাকার লোকজন নিয়ে বিচারে বসি। বিচারে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং চুরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য নাকে খত দিতে বলি। জরিমানার টাকা সে আয়-রোজগার করে দেবে। সন্ধ্যার দিকে শুনতে পাই, সে নিজের ঘরে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনা পুলিশকে জানিয়েছি। সংবাদ পেয়ে পুলিশ রাতেই লাশ উদ্ধার করছে। সোমবার (৯ মার্চ ) পোস্ট মর্টেমের জন্য চাঁদপুর পাঠিয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

বিভি/এআই

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত