বনায়নে বদলে যাচ্ছে উপকূলের জীবন, নারীদের অবাক করা সাফল্য
সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততা ও ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করেই টিকে আছে সাতক্ষীরা উপকূলের মানুষ। প্রায় দুই হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের শ্যামনগর উপজেলায় তিন লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। আইলা ও সিডরের মতো ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে বহুবার বিপর্যস্ত হয়েছে এ জনপদ। তবে, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এই উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন কর্মসূচির কাজ আজ বদলে দিচ্ছে প্রান্তিক নারীদের জীবন।
লবণাক্ত জমি ও নদী ভাঙনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে উপকূলের মানুষ। ভাঙনকবলিত নদীর চরে বনায়ন কর্মসূচি তৈরি করেছে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ। বিশেষ করে নারীদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র।
স্থানীয়রা জানান, এক সময় জীবিকার তাগিদে তাদের সুন্দরবনের নদীতে জাল ঠেলে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যেতে হতো। সেখানে কুমির ও বাঘের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করাই ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। এখন সেই ঝুঁকিপূর্ণ পথ থেকে সরে এসে নদীর চরে কেওড়া, বাইন ও গরানসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করে গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন বনভূমি।

দিনভর কাজ করে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় করছেন এখানকার নারীরা। এতে সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার খরচও জোগাতে পারছেন তারা। অনেক পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দুজনই এ কাজে যুক্ত থাকায় আর্থিক স্বচ্ছলতাও বেড়েছে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ ও সুশীলনসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে সাতক্ষীরা ও খুলনার কয়েকটি উপজেলার চর এলাকায় ইতোমধ্যে শত শত হেক্টর জমিতে ম্যানগ্রোভ বনায়ন করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন বেড়িবাঁধ ও নদীভাঙন থেকে উপকূল রক্ষা পাচ্ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান।
প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা উপকূলের মানুষের জীবনে বনায়ন এখন শুধু পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ নয়, বরং নতুন সম্ভাবনারও নাম।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: