শ্রীমঙ্গলে বাসা থেকে কালনাগিনী সাপ উদ্ধার
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি বাসা থেকে কালনাগিনী সাপ উদ্ধার করেছে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের কর্মীরা। সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে শ্রীমঙ্গল সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাসকারী শ্রাবণ পালের ঘরে দুর্লভ প্রজাতির লাল, কালো ও হলুদ রঙের এই সাপটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
শ্রাবণ পাল বলেন, রাতে হঠাৎ ঘরের ভেতরে সাপটি দেখতে পান তারা। এতে পরিবারের সবাই চরম ভীত হয়ে পড়েন। চিৎকার-চেঁচামেচিতে সাপটি ভয়ে ঘরের ভেন্টিলেটরের এক কোণায় গিয়ে কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে থাকে।
পরে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার হওয়া সাপটির নাম কালনাগিনী। এটি অত্যন্ত দুর্লভ একটি প্রজাতি। বর্তমানে এ ধরনের সাপ সচরাচর দেখা যায় না। পরে রাতেই সাপটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে কালনাগিনী সম্পর্কে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, দেশে পাওয়া দৃষ্টিনন্দন সাপগুলোর মধ্যে কালনাগিনী (Ornate Flying Snake) অন্যতম। অঞ্চলভেদে সাপটিকে উড়াল সাপ, সুন্দরী সাপ, কালসাপ ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়। ইংরেজি নামের সঙ্গেও ‘ফ্লাইং স্নেক’ যুক্ত রয়েছে, তবে সাপটি মোটেও উড়তে পারে না। বরং এটি গাছের উঁচু ডাল থেকে নিচু ডালে লাফিয়ে নামে। কালনাগিনী দিবাচর ও শান্ত স্বভাবের সাপ। খুব বেশি বিরক্ত না হলে কামড়ায়ও না। এরা সাধারণত ইঁদুর, টিকটিকি, গিরগিটি, ব্যাঙ ও ছোট পাখির ডিম ও কীটপতঙ্গ খায়। মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত এদের প্রজনন মৌসুম। সাপটি একবারে ৬-১২ টি ডিম পাড়ে যা থেকে দুইমাস পর বাচ্চা ফোটে।
তিনি বলেন, কালনাগিনী নির্বিষ সাপ। অথচ নাটক-সিনেমায় কালনাগিনীকে ভয়ংকর বিষধর সাপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই ঘটনাটিই মানুষের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে মানুষ সাপটি দেখামাত্রই মেরে ফেলে। এতে সুন্দর এই প্রাণীটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।
বিভি/এসজি



মন্তব্য করুন: