• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২ কেজি ১০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হলো ৭ হাজার ২০০ টাকায়

কুয়াকাটা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:৫০, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
২ কেজি ১০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হলো ৭ হাজার ২০০ টাকায়

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলে সোহরাফ গাজীর জালে ধরা পড়েছে ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় আকৃতির ইলিশ। মাছটি নিলামে মোট ৭ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে মাছটি বিক্রির জন্য কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিয়ে আসেন জেলে সোহরাফ গাজী। পরে নিলামে মাছটি কিনে নেন কুয়াকাটা মনি ফিশের ম্যানেজার মিজান।

জেলে সোহরাফ গাজী জানান, তিনি গত ১০ বছর ধরে বঙ্গোপসাগরের গভীরে গিয়ে ইলিশ শিকার করেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পায়রা বন্দরসংলগ্ন পাইপ বয়ার গভীর সমুদ্রে জাল ফেললে অন্যান্য মাছের সঙ্গে বড় আকৃতির ইলিশটি ধরা পড়ে। নিলামে মাছটি ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সাধারণত এত বড় ইলিশ পাওয়া যায় না। দীর্ঘ সাত বছর পর এবার এত বড় একটি ইলিশ পেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমি খুবই খুশি।’

মাছটি কিনে নেওয়া কুয়াকাটা মনি ফিশের ম্যানেজার মিজান বলেন, ‘এত বড় মাছ এখন এই বাজারে খুব কম দেখা যায়। তাই নিলামের মাধ্যমে মাছটি কিনেছি। এটি শরীয়তপুরের এক প্রবাসীর ভাইয়ের বাসায় পাঠানো হবে। এ ধরনের বড় মাছ পাওয়া গেলে আড়তদার ও জেলেসহ সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হতে পারেন।’

স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী জয়নাল ঘরামী বলেন, ‘৩ থেকে ৪ হাজার টাকা কেজি দরে ইলিশ কেনা আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। আগে বছরে অন্তত একবার ঘরে ইলিশ উঠত। এখন সেটাও স্বপ্ন হয়ে গেছে।’

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার বলেন, ছোট ইলিশের অযাচিত আহরণ, নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া, বাঁধ ও স্লুইস গেটের কারণে মাছের অভিবাসনে বাধা, অবৈধ জালের ব্যবহার এবং সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির অভাবের কারণে বড় ইলিশের সংখ্যা কমছে।

তিনি আরও বলেন, পানি দূষণ, প্ল্যাঙ্কটনের ঘাটতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার পরিবর্তন ইলিশের প্রজনন ও খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলছে। এসব কারণেও বড় আকারের ইলিশের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, ‘এটি অত্যন্ত ভালো খবর। নিষেধাজ্ঞার সুফল হিসেবেও বিষয়টি দেখা যেতে পারে। বড় ইলিশে ফ্যাট বেশি থাকায় এতে ওমেগা-৩ ও বিভিন্ন ভিটামিন থাকে, যা হৃদ্‌যন্ত্র, চোখ ও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। জালের প্রশস্ততা বাড়ানো হলে এ ধরনের বড় আকারের ইলিশ আরও বেশি ধরা পড়তে পারে।’

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: