কুষ্টিয়ায় ১৫০০ হাফেজের কোরআন প্রতিযোগিতা, বিজয়ী ৬২ জন
ছবি: বাংলা ভিশন
কুষ্টিয়ায় জেলা হিফযুল কুরআন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও জেলা ওলামা পরিষদের তত্ত্বাবধানে দিনব্যাপী এক মেগা হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) এতে জেলার প্রায় ১৫ শত হাফেজ অংশগ্রহণ করেন, যাদের মধ্য থেকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে বাছাই করে চূড়ান্তভাবে ৬২ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
শ্রাবণী নীটওয়্যার লি.-এর নিবেদনে দেশব্যাপী জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ার মোমতাজুল উলুম মাদরাসা প্রাঙ্গণে এই বিশাল আয়োজন সম্পন্ন হয়। প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট, সম্মাননা, গিফট হ্যাম্পার এবং পরবর্তী পর্বের জন্য 'ইয়েস কার্ড' তুলে দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুচারুভাবে পরিচালনা করেন মোমতাজুল উলুম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা আরিফুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা হিফজুল কোরআন বোর্ডের সভাপতি শায়েখ গোলাম মাওলা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হিফযুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা মুফতি হুমায়ূন সাঈদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি হুমায়ূন সাঈদ বলেন, "হিফযুল কুরআন ফাউন্ডেশন সারাদেশে কোরআন প্রতিযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ, হিফয শিক্ষার মানোন্নয়নসহ আর্তমানবতার সেবায় ও হাফেজ-আলেমদের কল্যাণে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।" তিনি সর্বস্তরের মানুষকে ফাউন্ডেশনের এসব মানবিক কাজে অংশগ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রতিটি মুসলিম নাগরিককে কোরআন শিক্ষার মাধ্যমে সমাজকে কোরআনের আলোয় আলোকিত করার অনুরোধ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের মহাসচিব হাফেজ কারী কামরুজ্জামান, ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি নজরুল ইসলাম হোসাইনী এবং শাইখুল হাদিস আল্লামা আবু দাউদসহ কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মাদ্রাসার বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি নজরুল ইসলাম হোসাইনী বলেন, "সারাদেশে হিফজুল কোরআন ফাউন্ডেশন এ বছর ৪২টি জেলায় অডিশন করতে যাচ্ছে। আগামীতে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায়ই আমরা অডিশন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
মহাসচিব হাফেজ কারী কামরুজ্জামান তার বক্তব্যে বলেন, "হিফজুল কুরআন ফাউন্ডেশন এদেশের হাফেজ-আলেমদের পাশাপাশি সর্বসাধারণের জন্যও কাজ করতে চায়। আমাদের এই মহতী কাজে আমরা সবাইকে পাশে চাই।"
হাফেজ মাওলানা আরিফুজ্জামান বলেন, "হাফেজ আলেমদেরকে সমাজের কল্যাণমুখী কাজে নিজেদের আত্মনিয়োগ করে আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।"
সভাপতির বক্তব্যে শায়েখ গোলাম মাওলা বলেন, হিফজুল কোরআন ফাউন্ডেশনের কোরআনের এই খেদমত এবং হাফেজ-আলেমদের কল্যাণে নেওয়া নানামুখী মানবিক কর্মকাণ্ড সবার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
পরিশেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার বর্ণাঢ্য সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
বিভি/এনএইচ













মন্তব্য করুন: