গৃহবধূর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, স্বামীসহ গ্রেফতার ২
চট্টগ্রামের শিকলবাহা খাল থেকে গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌসের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী রাজা মিয়া প্রকাশ রাজুসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সাম্পান নৌকাটিও জব্দ করেছে পিবিআই।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের এই তথ্য জানান পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন।
পিবিআই জানিয়েছে, জান্নাতুল ফেরদৌস নগরে একটি জুতার কারখানায় চাকরি করতেন। সাত বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে তিনি দ্বিতীয় স্বামী রাজা মিয়ার সঙ্গে নগরের চান্দগাঁও বাহির সিগন্যাল এলাকার ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর রাজাকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের সময় রাজা নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিলেও পরে তার প্রথম বিয়ের বিষয়টি জানতে পারেন জান্নাতুল। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিরোধের জেরে জান্নাতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রাজা।
গত ২ আগস্ট শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের লঞ্চ ঘাটসংলগ্ন খাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা জান্নাতুলকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তার মা ছায়রা খাতুন কর্ণফুলী থানায় হত্যা মামলা করেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় বেড়ানোর কথা বলে তাকে কর্ণফুলী নদীর অপর পাড়ে ব্রিজঘাটা এলাকায় নিয়ে যায় রাজা। এরপর সে ও তার সহযোগীরা একটি সাম্পান নৌকায় করে শিকলবাহা খালে যায়। রাত ৮টার পর নৌকার মধ্যে জান্নাতুলের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোন খালে ফেলে দেওয়া হয়। পরে গলায় রশি পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দি মরদেহ কালারপোল এলাকায় এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের পেছনে শিকলবাহা খালে ফেলে দেওয়া হয় ।
তিনি আরও জানান, গত ৬ অক্টোবর মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ থেকে মো. মুসলিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুজুর আহম্মদকে গ্রেফতার এবং সাম্পানটি জব্দ করা হয়। মুসলিম উদ্দিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বিভি/এসজি













মন্তব্য করুন: