ভৈরবে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১৫
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পৌর শহরের ঘোড়াকান্দা এলাকার হাবিব হুজুরের বাড়ির লোকজনের সাথে একই এলাকার বালুর মাঠের সোহেল মিয়ার বাড়ির লোকজনের এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় গুরুতর আহত পুলিশ সদস্যের নাম নাজমুল হোসেন (৪২)। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা সিএমএইচ (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল)-এ পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ এবং ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান। তাদের নেতৃত্বে ভৈরব থানা-পুলিশের একটি দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনায় আহতদের মধ্যে আহত পুলিশ সদস্য ছাড়াও জোবায়েদ আহমেদ (২৪), অনন্ত (২০), রবিন আহমেদ (১৮), রাতুল হাসান (২৩), মোস্তফা মিয়া (২২), সুজন মিয়া (২২), সালমান হোসেন (১৬), আরমান মিয়া (১৬) ও সাইফুল হোসেন (৩৫) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যান্যরা বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগের দিন ভৈরবপুর এলাকার আরিফ হাজীর সাথে ঘোড়াকান্দা বালুর মাঠ এলাকার সোহেল মিয়ার ছেলে ও তার সঙ্গীদের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে হট্টগোল হয়। ২৪ অক্টোবর বিকেলে ঘোড়াকান্দা মোড়ে বিষয়টি নিয়ে পুনরায় উত্তেজনা তৈরি হয়। মোড় থেকে ফেরার পথে সোহেল মিয়ার ছেলে ও তার সঙ্গীরা হাবিব হুজুরের বাড়িতে ঢিল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চালান।
কিন্তু কিছুক্ষণ পরই সোহেল মিয়ার ছেলে ও তার সঙ্গীরা নিজেদের ছাদ থেকে পুনরায় ঢিল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এর প্রতিবাদ করতে হাবিব হুজুরের বাড়ির যুবকরা এগিয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বেধে যায়। টানা তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এই ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে এক পুলিশ সদস্য আহত হন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হলে তাদের মধ্যে ৯ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নেন।
এ বিষয়ে হাবিব হুজুরের বাড়ির প্রধান আলহাজ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘অন্য এক এলাকার সাথে বালুর মাঠের সোহেলদের পরিবারের সংঘর্ষ বেধেছিল। কিন্তু তারা খামোখা আমাদের বাড়িতে ইট-পাটকেল ছোড়ে। আমরা তাদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা আমার ছেলেদের উপর চড়াও হয়। পরে তা বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়।’
অন্যদিকে বালুর মাঠ এলাকার সোহেল মিয়া দাবি করেন, হাবিব হুজুরের ছেলেরা আমাদের বাড়িতে হামলা করতে আসলে আমাদের বাড়ির ছেলেরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এতেই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘোড়াকান্দায় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় থানার ১ জন পুলিশ কনস্টেবল আহত হলে তাকে ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে রেফার করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক।
তিনি আরও জানান, একটি পক্ষের সাথে অন্য একটি পক্ষের সমিতির কিস্তি দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিলো। পরে সেই তুচ্ছ ঘটনা অন্য আরেকটি গ্রুপের সাথে সংঘর্ষে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিভি/এআই













মন্তব্য করুন: