• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেঘনায় অভিযানিক দলের গুলিতে এক জেলে নিহত, গুলিবিদ্ধ ৪

বরিশাল ব্যুরো 

প্রকাশিত: ১৭:০৭, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মেঘনায় অভিযানিক দলের গুলিতে এক জেলে নিহত, গুলিবিদ্ধ ৪

ছবি: সংগৃহীত

নৌ-পুলিশ ও জেলেদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ছেলে নিহত হয়েছেন এবং চার জেলে আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।তাদের গোপনে বিভিন্নস্থানে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। 

ঘটনাটি ঘটেছে মেঘনা নদীর বরিশালের হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের শাওড়া অরাকুল মাছ ঘাট সংলগ্ন এলাকায়।

নিহত জেলে হচ্ছেন, আকতার হোসেন হাওলাদার (৪০)। সে হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চর মেমানিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুলতান হাওলাদারের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী জেলে আব্দুল বেপারী জানিয়েছেন, মা ইলিশ নিধনের শেষদিনে বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকারকালে জেলেদের সাথে নৌ-পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে অভিযানিক দল এলোপাথারি গুলি ছোড়ে। এতে আকতারসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। দ্রুত আকতারকে বরিশালে নেয়ার পথে মারা যান। গুলিবিদ্ধ অপর জেলেদের গোপনে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালাচ্ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় জেলে ও অভিযানিক দলের সাথে সংঘর্ষ হয়। আত্মরক্ষার্থে অভিযানিক দলের ছোড়া গুলি আকতার হোসেনের বুকে লাগে। পাশাপাশি আরও চার জেলে গুলিবিদ্ধ হন। পরে গুলিবিদ্ধ আকতারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার (আকতার) মরদেহ হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর আহত জেলেরা আত্মগোপনে চলে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী জেলেদের বরাত দিয়ে নিহত আকতারের বোন সাথী বলেন, আকতারসহ অন্যান্যরা বুধবার রাতে মাছ শিকারের জন্য মেঘনা নদীতে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে মেঘনা নদীর হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের শাওড়া অরাকুল মাছ ঘাট সংলগ্ন এলাকায় কোস্টগার্ড এবং চাঁদপুর নৌ-পুলিশের অতর্কিত গুলিতে তার ভাই গুরুতর আহত হন। প্রথমে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে আকতারের মৃত্যু হয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন প্রকার অভিযোগ নেই। তাই আমরা ভাইয়ের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করতে চাই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের গণমাধ্যমের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় মেঘনায় কোস্টগার্ডের কোনো অভিযান ছিলো না। অপরদিকে বরিশাল অঞ্চলের নৌ-পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নৌ-পুলিশেরও কোন অভিযান ছিলো না।

হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কেএম মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, জেলে মৃত্যুর বিষয়টি বৃহস্পতিবার সকালে তিনি জানতে পেরেছেন। বুধবার রাতে তাদের কোনো অভিযানিক দল মেঘনা নদীতে যায়নি। তাদের স্পিডবোট দুইদিন ধরে বিকল থাকায় ছোট ট্রলার নিয়ে গত দুইদিন সীমিত পরিসরে অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, অন্য কোনো জেলার অভিযানিক দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে থাকতে পারে।

মেমোনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোরে কয়েকজন জেলে তাকে খবর দিয়েছে মেঘনা নদীতে এক জেলেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে তিনি গিয়ে ওই জেলেকে উদ্ধার করেন। এরপর পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তবে কে বা কারা গুলি করেছে সে বিষয়টি এখনও জানা যায়নি। 

হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান হোসেন জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। পাশাপাশি নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিয়াস সিকদার জানিয়েছেন, তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছেন চাঁদপুর নৌ পুলিশের গুলিতে একজিলে নিহত হয়েছেন। বর্তমানে জেলের লাশ হিজলা থানায় রয়েছে। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না।

চাঁদপুর নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ওই এলাকায় তাদের কোন অভিযান পরিচালিত হয়নি। এলাকাটি তাদের অধীনস্থ নয়।

বিভি/এআই

মন্তব্য করুন: