• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৪

লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চলে সয়াবিন চাষে কৃষকের মুখে হাসি

অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯:৩৮, ২৬ মে ২০২২

ফন্ট সাইজ
লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চলে সয়াবিন চাষে কৃষকের মুখে হাসি

লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চলে ক্ষেত থেকে সয়াবিন সংগ্রহ শুরু করেছেন কৃষকরা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বেশ কিছু জমির সয়াবিন কাটা যাবে। কোনো কোনো ক্ষেতে এখনো সয়াবিন পাকা শেষ হয়নি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকলে সুষ্ঠুভাবে কৃষকের ঘরে উঠবে সয়াবিন, ভরবে গোলা।

চরাঞ্চলের বিস্তৃর্ণ মাঠে এখন সয়াবিন ফসল। যেদিকে চোখ যায় কেবল সয়াবিন আর সয়াবিন। কাঙ্খিত ফলন হওয়ায় এখন কৃষকের মুখে হাসি।

এবার আবহাওয়া ছিলো অনুকূলে, আক্রমণ করেনি পোকা মাকড়। যে কারণে চলতি মৌসুমে সয়াবিনের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফসল কাটা পর্যন্ত কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার সয়াবিন কৃষকদের প্রত্যাশা পূরণ করবে। বিভিন্ন আড়তদারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এবার সয়াবিন বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা। এমনটি লক্ষ্মীপুর খামারবাড়ি অফিস থেকেও জানা যায়। 

মেঘনা থেকে ভেসে ওঠা এই লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চলের উর্বর মাটিতে সয়াবিনের বাম্পার ফলন হয়ে আসছে। দেশের প্রায় ৮০ ভাগ সয়াবিন এ জেলা থেকে উৎপাদিত। ব্যাপকভাবে এ ফসলের আবাদ ও বাম্পার ফলন হওয়ায় লক্ষ্মীপুর ‘সয়াবিনের রাজধানী’ হিসাবে পরিচিত হয়ে আসছে। এখানকার শতভাগ কৃষক সয়াবিন আবাদে জড়িত। চলতি মৌমুমে ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আবাদের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের তুলনায় এবার আরো ভালো ফলন ছাড়িয়ে গেছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, সয়াবিন আবাদে খরচ কম লাগে। কিন্তু মণপ্রতি বিক্রি হয় ২৩০০ টাকা থেকে ২৪০০ টাকা। সয়াবিনে রোগ ও পোকার আক্রমণও কম হয়। চাষাবাদ পদ্ধতি সহজ। ধানের চেয়ে বেশি দামও পাওয়া যায়। বিক্রি করলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। যে কারণে কৃষকরা সয়াবিন চাষে আগ্রহী।

জমির মালিক ও বর্গাচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে চরাঞ্চলে অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকতো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে অনাবাদি জমি পড়ে থাকতে দেখা যায় না। পড়ে থাকা ওইসব জমিতেও সয়াবিন চাষে সাফল্য আসছে। সয়াবিন চাষের সাথে ক্ষেতের আলে আলে সূর্যমুখী চাষ করতে দেখা যায়। অনেক কৃষকদের ধীরে হলেও ক্রমান্বয়ে সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের ঝুঁকতে দেখা যায়।

চর কাদিরা ইউনিয়নের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিক উল্লাহ সাংবাদিক অ আ আবীর আকাশকে বলেন, সয়াবিন বছরের সব সময় চাষ করা যায়। তবে রবি মৌসুমে ফলন বেশি হয়। যে কারণে রবি মৌসুমে সয়াবিনের আবাদ হয়ে থাকে। ৯৫ থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা যায়। হেক্টর প্রতি ১.৫ থেকে ২.৫ টন উৎপাদন হয়ে থাকে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর খামার বাড়ি লক্ষ্মীপুর অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪৫ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কৃষি বিভাগ। এরমধ্যে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ৬ হাজর ৫৬০ হেক্টর, রায়পুরে ৬ হাজার ১৫০ হেক্টর, রামগঞ্জে ৮৫ হেক্টর, রামগতি ১৮ হাজার ১৯০ হেক্টর ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে ১৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর। বিক্রির টার্গেট ধরা হয় চার'শ কোটি টাকা।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক ড. জাকির হোসেন বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না এলে কৃষকদের প্রত্যাশা পূরণ হবে। কাঙ্খিত ফলন পেতে কৃষি অফিস ও উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়ে কাজ করছেন।

সয়াবিন গাছের বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করলে দেখা যায়-সয়াবিন তেল জাতীয় শস্য। গাছ ৩০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার উঁচু হয়। গাছের কাণ্ডে ফুল হয়। ফুল থেকে শিমের মত ছড়াতে বীজ জন্মে, এ বীজগুলোকেই সয়াবিন বলা হয়। সয়াবিন ভোজ্য তেলের প্রধান উৎস। এটি অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। কচি ও শুকনো সয়াবিন বীজ সবজি-ডাল হিসেবে খাওয়া হয়। পরিণত সয়াবিন বীজ থেকে শিশুখাদ্য, সয়া দুধ, দই ও পনির, বিস্কুট ও কেকসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার তৈরি হয়ে থাকে। এছাড়াও পোল্ট্রি ও ফিস ফিড তৈরি, রং, সাবান এবং প্লাস্টিক মুদ্রণের কালি ইত্যাদি দ্রব্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে ও সয়াবিন একটি অপরিহার্য উপাদান।

বিভি/রিসি

মন্তব্য করুন: